দুর্গন্ধের কারণ খুঁজতে গিয়ে মিলল যুবকের লাশ
প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক:

ময়মনসিংহে দুর্গন্ধের কারণ খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ সোহেল মিয়া (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সোহেল মিয়া পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সোহেল। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিহতের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু এরপরও সোহেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠে বুধবার বিকেলে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, কলেজের জন্য একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দ হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য কতটুকু জমি প্রয়োজন এবং কোন দিকে করা যায়, তা দেখতে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী মাপজোখ করতে মাঠে যান। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, কলেজের সীমানা প্রাচীর ভাঙা এবং চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরে দুর্গন্ধের কারণ খুঁজতে গিয়ে মানুষের মাথা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহ উদ্ধারে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করা হয়। মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রথমে দুটি গ্লাভস পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ফুট গভীর থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন বলেন, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার পর সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। সোহেল ও সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করতেন। তবে পারিশ্রমিক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। সোহেলকে ঠিকমতো টাকা না দিয়ে সেলিম মারধরও করতেন। এ কারণে সোহেল ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন। বাড়িতে আসার খবর পেয়ে কাজ দেওয়ার কথা বলে সেলিম তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। সোহেলের খোঁজ জানতে চাইলে সেলিমের পরিবার কিছু জানায়নি। এর মধ্যে মঙ্গলবার এলাকা থেকে পালিয়ে যান সেলিম। দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মাথাবিহীন মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি পরিবার মরদেহটি তাদের সন্তান বলে দাবি করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিহতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করতে পিবিআইকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের ভগ্নিপতি সেলিমকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম