ঈদুল আজহায় গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৩৩
প্রকাশ: ০১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মুসলিমদের পবিত্র ঈদুল আজহার সময় গাজায় ইসরায়েলি সামরিক হামলায় ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের নতুন পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে অন্তত ২ হাজার ৭২১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্ল্যানিং কাউন্সিল (বেসামরিক প্রশাসন পরিকল্পনা পরিষদ) পশ্চিম তীরের বসতি সম্পর্কিত পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বুধবার (৩ জুন) বৈঠকে বসবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলার নিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পিএলও-এর সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে একজন মৃত এবং আটজন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৯৩৯ জনে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ৯২৭ জনে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৯৩০ জন নিহত ও ২ হাজার ৮১৯ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গাজা উপত্যকায় এখনও হাজার হাজার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, গাজা বন্দরের উপকূলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রের খবর অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এছাড়া মধ্য গাজা উপত্যকার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের ব্লক ৯-এ একটি বাড়ি লক্ষ করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঈদের শেষ দিনে গাজা সিটির সুক ফিরাস এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হওয়া সাইদ ফায়িজ শিমালি (২৭) নামে এক ফিলিস্তিনি যুবক আল-শিফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

এর পাশাপাশি জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়েছে। গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থী শিবিরের উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি মাছ ধরার নৌকাগুলো লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নৌযান থেকে ভারী গুলি চালানো হয়েছে।

এছাড়াও নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত আবু উরায়বান স্কুল লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি আর্টিলারি ইউনিটগুলো আঘাত হেনেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জেডএম/