
|
মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫
প্রকাশ:
০১ জুন, ২০২৬, ১০:১১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। চীনের সীমান্তসংলগ্ন শান রাজ্যের নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহী বাহিনী জানিয়েছে, খনির কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা উপকরণের আকস্মিক বিস্ফোরণের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহী দল তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি, যারা বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে এবং চীন সীমান্তের কাছের গ্রামটি নিয়ন্ত্রণ করে, তারা হতাহতের খবর দিয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা জানায়নি। বিবিসি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শ্বে ফি মায়ে নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষসহ অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। দলটি একটি টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছে, বিস্ফোরণের ফলে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট/টিএনএলএ গভীরতম সমবেদনা জানাচ্ছে। দলটি আরও জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ঘটা এই বিস্ফোরণের তদন্ত চলছে এবং এর জন্য দায়ী কাউকে পাওয়া গেলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এতে আরও বলা হয়, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) কাছে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ বিস্ফোরিত হয়েছিল।= ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিশাল গর্তের চারপাশে অসংখ্য ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনও ধোঁয়া বের হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রথমদিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে বিস্ফোরণটি বিমান হামলার কারণে ঘটেছে। তার পোস্ট অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। এছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরে আমার মোবাইল ফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি আমার শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’ টিএনএলএ মিয়ানমারের সামরিক জান্তাবিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটির অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের কার্যক্রমের অর্থায়নের জন্য মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার শৈথিল্যের কারণে খনি ধস এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা সেখানে নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। জেডএম/ |