
|
জামায়াত এমপির আরেকটি ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক
প্রকাশ:
২১ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে শুরু হওয়া ভিডিও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দাবিকৃত দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের দাবিকৃত তারিখের পরের একটি বায়োডাটায় সংশ্লিষ্ট নারীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি নতুন ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। টেবিলের ওপর রাখা একটি পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ ও ‘১৩তম পার্লামেন্ট’ লেখা এবং গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম ও সংসদ সদস্য পরিচয় দৃশ্যমান রয়েছে। ভিডিওতে উপস্থিত একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন, সাতক্ষীরার জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে।’ তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার রাতে একই তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুরুতে জেলা জামায়াতের নেতারা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুনকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। একই দাবি করেন দলটির স্থানীয় নেতারাও। লিখিত বিবৃতিতে এমপি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজনকে নিয়ে তাঁদের জিম্মি করেন। এ সময় এক লাখ টাকা আদায় এবং পরে আরও অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। পুরো ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহননের ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বায়োডাটা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমপির দাবি অনুযায়ী, ১৭ জুন বিয়ে সম্পন্ন হলেও ২২ জুন তারিখের ওই বায়োডাটায় মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে। একই বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরের পাশাপাশি হাতে লেখা ‘জোর সুপারিশ করছি’ মন্তব্যও দেখা যায়। এতে বিয়ের সময়কাল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে একটি কাবিননামার কপিতে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন ও বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম রয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তাঁর স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং বিষয়টি তিনি জানতেন। মরিয়ম খাতুনও পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর বৈধ স্বামী দাবি করে ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। একই দাবি করেন মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহ। একদিকে এমপির দ্বিতীয় বিয়ের দাবি, প্রথম স্ত্রীর সমর্থন এবং কাবিননামার তথ্য সামনে এসেছে; অন্যদিকে নতুন ভিডিও, বায়োডাটায় বৈবাহিক অবস্থার অসঙ্গতি এবং ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে ভিডিওগুলোর উৎস, বায়োডাটার সত্যতা, কাবিননামার প্রামাণিকতা এবং এমপির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা বক্তব্য প্রকাশ করেনি। আইও/ |