
|
তরুণদের স্মার্ট বিজনেস মডেল ‘কৃষি’
প্রকাশ:
৩০ মে, ২০২৬, ১১:২৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| মিনহাজ উদ্দীন আত্তার || একসময় কৃষিকে ভাবা হতো রোদে পোড়া, কাদামাখা, অনিশ্চিত এক জীবিকার নাম। যেখানে ছিল পরিশ্রম, কিন্তু সম্মান কম; ছিল ঘাম, কিন্তু লাভের নিশ্চয়তা কম। গ্রামের মাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই পেশাকে অনেকেই শুধুই দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম হিসেবে দেখতেন। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ২০২৬ সালের এই আধুনিক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে কৃষির সংজ্ঞাও বদলে গেছে। এখন কৃষি শুধু হালচাষ আর মৌসুমি ফসলের গল্প নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর, পরিকল্পিত এবং বহুমাত্রিক এক অর্থনৈতিক শক্তি। মাটির চিরন্তন গন্ধের সঙ্গে আজ যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির বুদ্ধিমত্তা, উদ্যোক্তার সাহস এবং বৈশ্বিক বাজারের সম্ভাবনা। আজকের স্মার্ট বাংলাদেশের তরুণদের কাছে কৃষি আর কোনো “শেষ ভরসার পেশা” নয়; বরং এটি হয়ে উঠছে একটি শক্তিশালী স্মার্ট বিজনেস মডেল। আমি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, কৃষক ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করছি। “কতকিছুর হাট”-এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে অসংখ্য কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। খুব কাছ থেকে দেখেছি—যে তরুণ একসময় চাকরির পেছনে ঘুরে হতাশ ছিল, সেই তরুণই আজ আধুনিক খামার গড়ে অন্যদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে। কেউ অর্গানিক সবজি নিয়ে কাজ করছে, কেউ মধু, কেউ ড্রাগন ফল, কেউ আবার নিরাপদ ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কেন কৃষি এখন তরুণদের সেরা বিজনেস মডেল? ১. নিরাপদ খাদ্যের বাজার দ্রুত বাড়ছে ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, ব্রকোলি, চেরি টমেটো, রঙিন ক্যাপসিকাম, মাশরুম কিংবা ঔষধি গাছের মতো উচ্চমূল্যের ফসল তরুণদের জন্য নতুন আয়ের দরজা খুলে দিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্র্যান্ডিং থাকলে এই খাত থেকে প্রচলিত ব্যবসার চেয়েও বেশি লাভ করা সম্ভব। ২. প্রযুক্তি কৃষিকে বদলে দিয়েছে ড্রিপ ইরিগেশন, আইওটি (IoT), ড্রোন মনিটরিং, হাইড্রোপনিক্স, অ্যাকুয়াপনিক্স, স্মার্ট গ্রিনহাউজ—এসব প্রযুক্তি কৃষিকে আরও নিয়ন্ত্রিত, লাভজনক ও আধুনিক করে তুলছে। একসময় যে কৃষক আন্দাজে চাষ করতেন, আজ তিনি মোবাইল অ্যাপ দিয়ে মাটির অবস্থা, আবহাওয়া ও বাজারদর বুঝে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ৩. ভ্যালু এডিশনই ভবিষ্যৎ একটি কৃষিপণ্যকে যদি ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বাজারে তোলা যায়, তাহলে সেটি শুধু পণ্য থাকে না—একটি পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। ৪. কৃষিই হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস যদি GAP (Good Agricultural Practices) অনুসরণ করে মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কৃষি হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রপ্তানি খাত। ৫. কৃষিতে সম্মান ও স্বাধীনতা দুটোই আছে কৃষি মানুষকে শুধু আয় দেয় না; এটি তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেয়। নিজের হাতে কিছু গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাস দেয়। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কিছু কৃষিভিত্তিক খাত
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু শহরের কংক্রিটে নয়, লুকিয়ে আছে গ্রামের উর্বর মাটিতেও। আজ প্রয়োজন কৃষিকে নতুন চোখে দেখা, কৃষককে সম্মান করা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া। কারণ মাটি কখনো প্রতারণা করে না—সততা, জ্ঞান আর শ্রম নিয়ে যে মানুষ মাটির কাছে যায়, মাটি একদিন তাকে সফলতার গল্প ফিরিয়ে দেয়। লেখক: কৃষি উদ্যোক্তা, সংগঠক ও প্রশিক্ষক এমএম/ |