
|
‘ইসলামি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে’
প্রকাশ:
১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৬ রাত
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক দেশে ইসলামি গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইসলামিক রিসার্চ মেথডোলজি’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের উদ্যোগে শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থার বিপুলসংখ্যক গবেষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণার পদ্ধতিগত উৎকর্ষ, একাডেমিক সততা এবং নতুন গবেষক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালা ইসলামি গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সঠিক নীতি, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই শিক্ষাবিদ বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের স্বাধীন ও মুক্ত একাডেমিক পরিবেশে গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ দেশ-বিদেশে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. কামরুজ্জামান শামীম বলেন, ইসলামি গবেষণাকে সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি। এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের পূর্বশর্ত হলো গবেষণা। আধুনিক বিশ্বে ইসলামের সার্বজনীন কল্যাণের বাণী যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হলে মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও দক্ষ গবেষক তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ধারাবাহিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এর আগে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম। তিনি বলেন, একটি জাতির জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতির জন্য মৌলিক ও মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি গবেষণাকে সময়ের চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ গবেষক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইসলামি গবেষণার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী এবং ড. মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন। তারা গবেষণার বিষয় নির্বাচন, তথ্যসূত্র ব্যবহারের নীতিমালা, একাডেমিক লেখার কৌশল, গবেষণা প্রস্তাবনা প্রণয়ন এবং গবেষণাপত্র প্রস্তুতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালাকে সময়োপযোগী, ফলপ্রসূ এবং গবেষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের আহ্বান জানান। এ সময় বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সেন্টারের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আইও/ |