
|
উন্নয়ন বাজেটের অর্ধেকই দুর্নীতিতে চলে যায়: বিকেএম
প্রকাশ:
২৪ মে, ২০২৬, ০৮:১৪ রাত
নিউজ ডেস্ক |
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ দুর্নীতিতে অপচয় হওয়ার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম)। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেছেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন বাজেটের ৫০ শতাংশই দুর্নীতিতে চলে যায়। বাকি ৫০ শতাংশের কাজও ঠিকমতো হয় কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। রোববার (২৪ মে) বিকেল ৩টায় ঢাকার পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ লিখিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট হলেও ন্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া কেবল বাজেটের আকার বৃদ্ধি জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে না। তিনি দেশের বর্তমান অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং বৈদেশিক ঋণের চাপের কথা উল্লেখ করেন। প্রস্তাবনায় চাল, ডাল, তেল, চিনি, ডিম ও শিশুখাদ্যের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ওএমএস কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং মজুদদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়। সংগঠনটি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কর অবকাশ, সুদমুক্ত ঋণ, আইটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে বিশেষ তহবিল গঠন এবং প্রতিটি বিভাগে ‘ডিজিটাল স্কিলস হাব’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় সুদমুক্ত ফাইন্যান্সিং চালুর আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবনায় স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ, জেলা হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং জেনেরিক ওষুধ ব্যবহারে বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দের রোডম্যাপ, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং AI-ভিত্তিক শিক্ষা সহায়তা চালুর প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। সংগঠনটি সুদভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে ইসলামী অর্থায়ন কাঠামো চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ লক্ষ্যে সুকুক বন্ড চালু, সুদমুক্ত SME তহবিল গঠন, ওয়াকফভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন এবং যাকাতদাতাদের করছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবার ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত-আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মাসিক ভাতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিও জানানো হয়। একই সঙ্গে ‘জাতীয় শহীদ কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এসব অর্থ ফেরত আনা গেলে জনগণের জন্য প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেওয়া কঠিন হবে না। তিনি বলেন, দেশ একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক বণ্টনের বাজেট প্রত্যাশা করে। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা হারুনুর রশিদ ভূইয়া, মাওলানা শরীফ হুসাইন, মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা মুরশিদ আলম সিদ্দিকী এবং মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। আইও/ |