বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪
প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দেশের ৮টি জেলায় সৃষ্ট বন্যায় ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হলেও সরকার এখন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রথমে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং পরে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের কিছু অংশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১। নিহত হয়েছেন ৫৪ জন। তাঁদের বেশির ভাগই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড কাজ করছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার পুনর্বাসন কার্যক্রম। কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে। সে অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বন্যা-পরবর্তী রোগবালাই মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কাঁচা সড়ক কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু থাকবে। এ বছরের বন্যাকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি বুধবার থেকে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করবেন। মঙ্গলবারই তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেজিং প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আগের সরকারের সময় কী হয়েছে, সেটি আলাদা বিষয়। বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আইও/