দুই দশক ধরে হাজিদের খেদমতে নিবেদিত বাংলাদেশি মোকাররেবুর রহমান
প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬, ১২:০৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই হজ করার স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশের মোকাররেবুর রহমান। কিন্তু তখন তার আর্থিক অবস্থা ছিল এতটাই দুর্বল যে, দিনে একবেলা খাবার জোগাড় করতেও কষ্ট হতো। ফলে তার সেই স্বপ্ন শুনে বন্ধুরা হাসাহাসি করতেন। তবে কেউই জানতেন না, খুব শিগগিরই সেই স্বপ্ন পূরণ হবে এবং এরপর আর কখনও হজ মিস করবেন না তিনি।

বাংলাদেশের নাটোর জেলার বাসিন্দা মোকাররেবুর রহমান একটি মাদরাসা শিক্ষক পরিবারের সন্তান। তার বাবা নিজের সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করতেন সন্তানদের লেখাপড়ার পেছনে। ফলে পরিবারে কেউ কখনও কল্পনাও করেননি যে, একদিন তাদের পক্ষে কাবা ও মসজিদে নববী সফর করা সম্ভব হবে।

কিন্তু ২০০৪ সালে, যখন রহমানের বয়স ২৯ বছর, তখন একটি হজ এজেন্সির মালিক তাকে এলাকায় সম্ভাব্য হাজিদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেন। তিনি সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করলে তাকে হাজিদের গাইড হিসেবে হজে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

রহমান বলেন, ‘মার্ভেলাস এয়ার ট্রাভেলসের মালিক সালেহ আকবর আমাকে হজের প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। সেই দিনের কথা মনে পড়লে এখনও চোখে পানি চলে আসে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা সবসময় আমার জন্য দোয়া করতেন। তারা কান্না করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন আমি হজ করার সুযোগ পাই। ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড় সন্তান হিসেবে আমার এই সফর ছোট ভাইবোনদের জন্যও আনন্দ ও গর্বের বিষয় ছিল।’

এই সফর আরও বিশেষ হয়ে ওঠে কারণ তিনি তার বাবাকেও সঙ্গে নিতে পেরেছিলেন। রহমান জানান, পুরো সফরজুড়ে তার বাবার চোখ অশ্রুসিক্ত ছিল।

তিনি বলেন, ‘আবেগে আমি প্রায় কথাই বলতে পারছিলাম না। প্রথমবার কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। মহান আল্লাহ আমাকে হজ করার সুযোগ দিয়েছেন—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।’

‘চোখের পানির মধ্য দিয়েই আমি হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছি। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা এখনও সম্ভব নয়, যোগ করেন তিনি।

প্রথম হজই বদলে দেয় তার জীবনের পথ। শুরুতে বিভিন্ন হজ এজেন্সির সঙ্গে কাজ করলেও পরে রহমান নিজেই একটি হজ এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন প্রতি বছর তিনি হাজিদের হজের সফরে গাইড করেন এবং নিজেও হজ পালন করেন। ২০০৪ সালের পর থেকে শুধু ২০২০ সালে করোনাভাইরাসজনিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি হজে যেতে পারেননি।

নিজের প্রথম হজের সুযোগ পাওয়ার স্মৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রহমান অন্যদেরও সেই সুযোগ করে দিতে চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি বছর গোপনে এক বা দুইজন হাজির সম্পূর্ণ খরচ বহন করি। এছাড়া আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের পক্ষ থেকেও হজ পালন করেছি। কারণ সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে আমি আমার দাদা-নানা, চাচা এবং মৃত আত্মীয়দের নামেও হজ পালন করেছি।’

জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে রহমান বলেন, ‘আমি হাজিদের খেদমতেই জীবন উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র ভূমিতে যান, তাদের সেবা করার মাধ্যমে আল্লাহ যেন আমার প্রচেষ্টা কবুল করেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’

সূত্র: আরব নিউজ

আইও/