
|
হাটহাজারী মাদরাসায় ব্যতিক্রমী জ্ঞান-প্রতিযোগিতা
প্রকাশ:
২১ মে, ২০২৬, ০৩:২৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী-তে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা। পবিত্র জিলহজ্জ মাসকে সামনে রেখে ‘মাহে যিলহজ্জ ও কুরবানির ফযীলত ও মাসায়েল’ শীর্ষক এই আয়োজন বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত হয়। মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মনির আহমদ জানান, জামিয়ার বায়তুল আতিক জামে মসজিদে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তর ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মেধা, অধ্যয়ন ও গবেষণার দক্ষতা উপস্থাপন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভাগীয় উস্তাদরা যিলহজ্জ মাসের তাৎপর্য, কুরবানির ফযীলত ও গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল নিয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করেন। পরে শিক্ষার্থীদের দুইটি দলে ভাগ করে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এক দল অন্য দলের কাছে যিলহজ্জের ইতিহাস, ফযীলত এবং কুরবানির সূক্ষ্ম মাসায়েল নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে অপর দল শরিয়তসম্মত ও যৌক্তিক উত্তর প্রদান করে। পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন জামিয়ার বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের কিতাবি জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে দ্বীনি বিষয়ে গভীর উপলব্ধি, আত্মবিশ্বাস ও প্রায়োগিক দক্ষতা গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন জামিয়ার মুহতামিম আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী। তিনি বলেন, “ইলমের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে। এ ধরনের প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে এবং অজানা বিষয় জানার আগ্রহ বাড়ায়।” জামিয়ার শিক্ষাসচিব ও মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ বলেন, কিতাব অধ্যয়নের পাশাপাশি বাহাস, আলোচনা ও মতবিনিময় দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের গভীর অধ্যয়ন ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সহকারী শিক্ষাসচিব ও মুহাদ্দিস আল্লামা আহমদ দীদার কাসেমী বলেন, “শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকলে ইলম পরিপূর্ণ হয় না। বাস্তব ও প্রায়োগিক অনুশীলনের মাধ্যমেই জ্ঞান পরিপক্বতা লাভ করে।” অনুষ্ঠান পরিচালনা ও মূল্যায়নে অংশ নেন জামিয়ার একঝাঁক উস্তাদ ও মুহাদ্দিস। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। জেডএম/ |