
|
হজ থেকে বঞ্চিত গাজাবাসী, ঈদে মিলবে না কুরবানির গোশতও
প্রকাশ:
২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
যুদ্ধ, অবরোধ ও সীমান্ত বন্ধের কারণে এবারও হজ পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গাজার হাজারো মুসলমান। একই সঙ্গে টানা তৃতীয় বছরের মতো ঈদুল আজহায় কুরবানির পশু সংকটেও পড়েছেন উপত্যকার বাসিন্দারা। ফলে গাজাজুড়ে ঈদ ও হজের আনন্দের বদলে বিরাজ করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের একটি তাবুতে বসবাসকারী ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া আবু লেহিয়া রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধের আগে তিনি ও তাঁর স্বামী একসঙ্গে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। পরে তাঁর স্বামী মারা যান। তিনি বলেন, ‘আমাদের নাম হজের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ সবকিছু থামিয়ে দিল। এখন ভয় হয়, হজ পালন না করেই হয়তো আমিও মারা যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু আল্লাহর ঘরে যেতে চাই, অন্য কিছু না। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ। কেন হাজিদের এভাবে আটকানো হচ্ছে?’ মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ। ২০২৩ সালে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি বছর অন্তত তিন হাজার গাজাবাসী হজ পালন করতেন। চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অনেকে আশা করেছিলেন, মিসরের রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলে গেলে হজযাত্রা আবার শুরু হতে পারে। কিন্তু কঠোর যাতায়াত নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আশা পূরণ হয়নি। ইসরাইলের তত্ত্বাবধানে সীমিত পরিসরে রাফাহ ক্রসিং খুললেও সেখানে মূলত অসুস্থ ব্যক্তি ও অল্প কিছু সহযাত্রীকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ইসরাইলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনায় সীমিত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং যাত্রী তালিকা মিসরীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে গাজার হামাস পরিচালিত মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৩০৪ জন গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা প্রত্যাশিত সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। এদিকে গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় পশুপালন খাত ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় টানা তৃতীয় বছরের মতো ঈদুল আজহায় কুরবানির পশু পাওয়া যাবে না। খামার, পশুর শেড, ভেটেরিনারি কেন্দ্র ও খাদ্যগুদাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
যুদ্ধের আগে ঈদ উপলক্ষে গাজায় প্রতি বছর ১০ থেকে ২০ হাজার গরু এবং ৩০ থেকে ৪০ হাজার ভেড়া আমদানি করা হতো। তবে বর্তমানে জীবিত পশু আমদানির সুযোগ নেই। কোগাট দাবি করেছে, তারা মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য প্রবেশে সহায়তা করছে এবং গত এক মাসে প্রায় ৮ হাজার টন খাদ্যপণ্য গাজায় পৌঁছেছে। তবে হামাসের দাবি, মে মাসে যে পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছানোর কথা ছিল, বাস্তবে তার মাত্র এক-চতুর্থাংশ প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানালেও গাজার সাধারণ মানুষ এখনো চরম খাদ্যসংকট, অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স জেডএম/ |