হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ইরানের নতুন আইন, কঠোর বিধিনিষেধ জাহাজ চলাচলে
প্রকাশ: ২১ মে, ২০২৬, ০৯:২২ সকাল
নিউজ ডেস্ক

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইরান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে—এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি প্রণালীর পূর্ব প্রবেশদ্বারে ইরানের ‘কুহ-ই মুবারক’ থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘ফুজাইরাহ’র দক্ষিণ পর্যন্ত এবং পশ্চিম প্রবেশদ্বারে ইরানের ‘কেশম দ্বীপের’ শেষ প্রান্ত থেকে ওমানের উপকূল ছুঁয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘উম্ম আল-কুওয়াইন’ পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্ধারিত সীমানার ভেতর দিয়ে যেকোনো ধরনের ট্রানজিট বা নৌযান চলাচল করতে হলে তা অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের এই আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘নিয়ন্ত্রিত সমুদ্র অঞ্চল’ (কন্ট্রোলড মেরিটাইম জোন) প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’। দেশটির এই নতুন নীতিমালা অনুসারে এখন থেকে এই অঞ্চল দিয়ে যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ বা নৌযান পারাপারের ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমতি এবং সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার অর্থ হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণ পরোক্ষভাবে নিজেদের হাতে নেওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এবং পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ইরানের এই নতুন নৌ-সীমা নীতির কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেডএম/