‘রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বিদ্যমান আইনের ব্যর্থতা প্রমাণিত’
প্রকাশ: ২০ মে, ২০২৬, ০৪:১১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা প্রমাণ করে যে, নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় শরিয়াহ আইন বিকল্প হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার (২০ মে) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে হত্যার যে বর্ণনা সামনে এসেছে তা অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও মানবতাবিরোধী। মানুষের প্রতি মানুষ এতটা নির্মম হতে পারে—এটি কল্পনারও বাইরে। তবে এ ধরনের ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই শিশু ও নারীদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এসব ঘটনার অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত বিচারের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে না বলেই সমাজে এ ধরনের বর্বরতা বাড়ছে। রামিসার বাবার বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি কোনো বিচার চাই নাই, আপনারা বিচার করেন না”—এই আর্তনাদই দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের গভীর অনাস্থার প্রতিফলন।

মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও আইনি কাঠামো নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে সমাজে ভয়াবহ অপরাধ বাড়ছে। তাই নারী ও শিশুদের বর্বরতার হাত থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রকে শরিয়াহ আইন প্রয়োগের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৯০টির বেশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৩১৭টি। এসব মামলার বড় অংশই ধর্ষণসংক্রান্ত। অথচ আইনে ৯০ দিনের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘসূত্রিতা, সাক্ষী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং আইনি জটিলতার কারণে বিচার কার্যক্রম বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অপরাধীরা প্রকৃত শাস্তি থেকে রেহাই পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পল্লবীর রামিসা হত্যার দায় শুধু খুনির নয়, বরং ব্যর্থ আইন ও বিচারব্যবস্থারও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতির শেষে তিনি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দ্রুত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জেডএম/