জিলহজের প্রথম দশক: শ্রেষ্ঠ দিনে শ্রেষ্ঠত্বে গড়ি জীবন
প্রকাশ: ২০ মে, ২০২৬, ১১:১০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতি আশিকুল ইসলাম রহমতনগরী ||

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই শ্রেষ্ঠ। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে আরও  উন্নীত করতে আল্লাহ তায়ালা পুরো বছরেই বিভিন্ন সময় বিশেষ কিছু দিন দিয়ে দিয়েছেন। প্রিয় বান্দারা তা সহজে লুফে নিয়ে থাকেন আর নিজেকে জান্নাতি মানুষে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সময় হলো জিলহজের প্রথম দশক।

এই মাসের গুরুত্ব, মাহত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। বিশেষ করে প্রথম দশকের ইবাদতের মার্যাদা আল্লাহ তায়ালার নিকট অনেক বেশি পছন্দনীয়। তাই আল্লাহ তায়ালা সুরা ফাজরের সূচনাতে কসম করে বলছেন—وَالْفَجْرِ (১) وَلَيَالٍ عَشْرٍ

অর্থাৎ ফজর ও দশ রজনীর কসম। (সুরা ফজর-১,২)

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-সহ অধিকাংশ মুফাসিসর একমত যে, দশ রজনী দ্বারা জিলহজ মাসের ১০ রজনীই উদ্দেশ্য। বিভিন্ন হাদিস থেকেও এই মাসের মর্যাদা সম্পর্কে জানা যায়। মুসনাদে আহমদে ইবনে উমর রা. থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে, রাসুল সা. বলেছেন—‘এই দিবসগুলোর মধ্য থেকে আল্লাহ তায়লার নিকট সবচেয়ে বড় সম্মানিত দিবস হলো এই জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন,  এবং এই দিনগুলোর  আমল আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। অতএব তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলিল (লা ইলাহা) তাকবির (আল্লাহু আকবর) তাহমিদ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করো।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৫৪৪৬)

এই মাস আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাস। বান্দা নিজেকে সকল পাপ-পংকিলতা থেকে পবিত্র করে আল্লাহর একনিষ্ট গোলামে রূপান্তর করার মাস। তাই সকল ধরণের ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করার সাথে সাথে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উচিত।

অপর এক হাদিসে রাসুল সা: এই দশ দিনের মর্যাদা বুঝাতে গিয়ে সাহাবাদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, এই দশ দিনের আমল জিহাদের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন—‘জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়’। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস কররেন, ‘জিহাদও কি উত্তম নয়? রাসুল সা. বললেন, জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছু নিয়ে ফিরে আসে না। (সহিহ বুখারি, ৬৯৬)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় এই মাস নিজেকে সংশোধন করে শ্রেষ্ঠ বানানোর মাস। তাই আমাদের প্রত্যেকের জন্য উচিত হলো, সকল ব্যস্ততা থেকে নিজেকে অবসর করে ইবাদতের এই মৌসুমে নিজেকে জান্নাতের জন্য তৈরী করা। বাজারে বাহিরে, হাটে-ঘাটে, চায়ের স্টলে, গিবতের আড্ডায়, মোবাইলের অনৈতিক আকর্ষনে পড়ে অনর্থক সময় নষ্ট না করা।

এই দিনগলোর বিশেষ আমল হলো, ১. প্রথম নয়দিন রোজা রাখা। ২. বেশি বেশি তাকবির, তাসবিহ পাঠ করা। ৩. ইফল ইবাদত বেশি করা। ৪. আরাফার রোজা রাখা। ৫. জিলহজ মাসের চাদ উঠার পর থেকে কুরবানি দেয়ার আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও অবাঞ্চিত পশুম না কটা। ৬. ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আছর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাযের পর একবার করে তাকবিরে তাশরিক পড়া।

আল্লাহ আমাদের প্রত্যেকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

লেখক: মুহাদ্দিস, মারকাযুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, পদরদিয়া, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা।

জেডএম/