
|
হজ মৌসুমে ভাষা-বৈচিত্র্যে অনন্য মিলনমেলা মক্কা
প্রকাশ:
১৯ মে, ২০২৬, ০৮:০৭ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
হজ মৌসুমে পবিত্র মক্কা যেন বিশ্ব মুসলিমের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় আরবির পাশাপাশি বিশ্বের নানা ভাষার ধ্বনি মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদুল হারাম ও পবিত্র স্থানগুলোতে। উর্দু, ইন্দোনেশীয়, তুর্কি, ফারসি, বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, সোয়াহিলিসহ অসংখ্য ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় হজযাত্রীদের। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের এই সমাগম মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য থাকলেও হজের ইবাদত মুসলমানদের একই সুতোয় গেঁথে রাখে। তাওয়াফ, দোয়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় এক অভিন্ন আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভাষাগত বাধা দূর করতে বহুভাষিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির বিষয়ক জেনারেল অথরিটি ‘মানারাতুল হারামাইন’ প্ল্যাটফর্ম ও এফএম রেডিওর মাধ্যমে খুতবা ও ধর্মীয় বক্তব্য ১০টি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ সেবা দিচ্ছে। এছাড়া ওয়্যারলেস হেডফোন ও ডিজিটাল গাইড কার্ডের মাধ্যমে ৫০টিরও বেশি ভাষায় দিকনির্দেশনা ও সাংস্কৃতিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। অনুবাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মসজিদুল হারামে বিভিন্ন ভাষার বই-পুস্তক, নির্দেশনামূলক ব্রোশিওর, দিকনির্দেশনা বোর্ড ও ইলেকট্রনিক স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের অনুবাদসহ বিভিন্ন ভাষার কপি সরবরাহ করা হচ্ছে। পবিত্র স্থানগুলোতে বহুভাষিক ফিল্ড টিম ও স্বেচ্ছাসেবকরা হাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে কাজ করছেন। তারা স্বাস্থ্যসেবা, ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করছেন, যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়। এসব উদ্যোগ হজযাত্রীদের জন্য একটি সমন্বিত ও সহজ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছে। একই সঙ্গে ইসলামের বার্তা ও মসজিদুল হারামের সেবাসমূহ সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি আরও সমৃদ্ধ করছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলমানদের এই মহাসমাবেশ আবারও প্রমাণ করছে—মক্কা শুধু একটি পবিত্র নগরী নয়, বরং এটি মুসলিম বিশ্বের মানবিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বৈশ্বিক মিলনকেন্দ্র। সূত্র: আরব নিউজ জেডএম/ |