
|
পশ্চিমবঙ্গে গরুর বদলে ছাগল-ভেড়া কোরবানির পরামর্শ আলেমদের
প্রকাশ:
১৮ মে, ২০২৬, ১২:০৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম আলেম, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক নেতারা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আইন মেনে কোরবানি করার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাজ্যে ক্ষমতায় আসা বিজেপি গরু কোরবানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার পর এই আহ্বান আসে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫০ এবং ২০১৮ সালের কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনার উল্লেখ করে বলা হয়, আইন অনুযায়ী বৈধ সনদ ছাড়া গবাদিপশু জবাই করা যাবে না। কোনো পশু জবাইয়ের উপযোগী কি না, সে বিষয়ে সনদ দিতে পারবেন শুধু সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি ভেটেরিনারি সার্জন যৌথভাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জবাইয়ের অনুমতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুটিকে হয় কর্মক্ষমতা বা প্রজননক্ষমতা হারিয়ে ১৪ বছরের বেশি বয়সী হতে হবে, অথবা বয়স, আঘাত, বিকৃতি কিংবা দুরারোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হতে হবে। সরকারি এই নির্দেশনার পর কলকাতার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, আলেম ও কমিউনিটি নেতারা মুসলমানদের গরু কোরবানি থেকে বিরত থেকে ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মিল্লি ইত্তেহাদ পরিষদের সম্পাদক আবদুল আজিজ বলেন, মুসলিম সমাজকে অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থেকেই কোরবানি আদায় করতে হবে। নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলা উচিত। তিনি বলেন, ইসলামে কোরবানির জন্য বিভিন্ন ধরনের পশুর অনুমতি রয়েছে। মানুষ চাইলে ছাগল বা ভেড়া কোরবানি করতে পারে। একইসঙ্গে আমরা আশা করি, প্রশাসন যেন সব নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করে। কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী বলেন, সরকার ১৯৫০ সালের আইন অনুযায়ী কোরবানির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে এবং আমরা সেই অবস্থানকে সম্মান করি। তিনি আরও বলেন, কোরবানির জন্য ছাগল ও ভেড়াসহ আরও বিভিন্ন পশু রয়েছে। তবে গবাদিপশুর ব্যবসায়ী ও এ খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষেরা বিধিনিষেধের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। আমরা আশা করি, সরকার আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই বিষয়টি সহজ করার পথ খুঁজবে। রয়েড স্ট্রিট মসজিদের ইমাম মাওলানা শাব্বির মিসবাহিও পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ভারতীয় মুসলমান হিসেবে আমাদের আইনের সীমার মধ্য থেকেই কোরবানির বিধান পালন করতে হবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের সবার প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বছর মুসলমানদের ছাগল ও ভেড়া কোরবানির প্রতি উৎসাহিত করে বিভিন্ন প্রচারণা জোরদার হয়েছে। কলকাতার ব্যবসায়ী আজহার খান, যিনি এমন একটি প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত, বলেন, ইসলামে শুধু গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। কোরবানির জন্য আরও বিভিন্ন পশুর অনুমতি রয়েছে। মানুষকে আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করা উচিত। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া জেডএম/ |