
|
‘রাজনীতির নতুন গতিপথ হতে হবে সাতচল্লিশ, একাত্তর ও চব্বিশের চেতনায়’
প্রকাশ:
১৭ মে, ২০২৬, ০৮:৪১ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘সাতচল্লিশ, একাত্তর এবং চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করে জাতীয় রাজনীতিতে আমাদের পথচলার গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে।’ শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বিএমএ ভবনে জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মাহফুজুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেম, লেখক, সাংবাদিক, তরুণ চিন্তক ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুল হক। বক্তব্যে তিনি দেশের পূর্বাপর রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আলেম সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইসলামি মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনাকে সমন্বয় করেই এগোতে হবে। এ সময় তিনি নিজ দলের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং উপস্থিত আলেম, সাংবাদিক, লেখক ও চিন্তকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, রাজনৈতিক বিভক্তি ও মতপার্থক্যের মধ্যেও পারস্পরিক মতবিনিময়ের এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌহার্দ্য ও সহনশীলতা বজায় রেখে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে আগামী দিনের রাজনীতিতে সহাবস্থান ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সভায় বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ বলেন, রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু নেই। সময় ও বাস্তবতার প্রয়োজনেই রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে। তাই রাজনৈতিক জোট ও কৌশল নির্ধারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জামিয়াতুল মানহাল উত্তরার মুহতামিম মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারী বলেন, দেওবন্দী আদর্শের যথাযথ অনুসরণ ও ওলামায়ে কেরামের স্বকীয়তা বজায় রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক পথরেখা নির্ধারণ করতে হবে। জাতীয় সংসদ সদস্য মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, জাতীয় রাজনীতিতে আর ‘ভাড়াটিয়া’ হয়ে থাকা যাবে না। বরং আলেমদের স্বকীয় ধারার রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে হবে। সভা শেষে মুনাজাতপূর্ব বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী বলেন, জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে আলেম সমাজের অভিভাবকত্বের ভূমিকা পালনের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আদনান মাসউদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা উবাইদুল্লাহ মধুপুর, মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী, মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, মাওলানা আবু মুহাম্মাদ রাহমানী, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা শাহের জহিরী, মাওলানা আলী হাসান তৈয়্যব, মাওলানা সৈয়দ শামসুল হুদা, মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেমী, মাওলানা এমদাদুল্লাহ উত্তরা, মাওলানা যুবায়ের আহমাদ, মনযুরুল হক, মাওলানা সাইফুর রহমান, মাওলানা এহসানুল হক, মাওলানা ওমর ফারুক, মুফতি মুহাম্মাদ আরাফাত, মাওলানা তানভীরুল হক সিরাজী, মাওলানা আবদুল গাফফার, মাওলানা জাবের মুহাম্মাদ আজহার, মাওলানা ইউসুফ ওবায়দী, মুফতি ইসহাক মাহমুদ রফিকী, মুফতি খতিব আবদুস সালাম, মুফতি মামুন বিন আলতাফ, মাওলানা আব্দুল কাদির, রাসেল মাহফুজ, মাওলানা ইমদাদ আশরাফ, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আমিন, মাওলানা মুহাম্মাদ ফজলুর রহমান, মাওলানা আহমাদুল্লাহ মধুপুর, মাওলানা আবু ইউসুফ মধুপুর, মাওলানা জাকারিয়া, মাওলানা মাহমুদ লালবাগ, মাওলানা ইমাম হুসাইন, মাওলানা হুসাইন আহমদ ইসহাকী, মাওলানা ইরফান পাঠান এবং মাওলানা মামুনুর রশীদ প্রমুখ। জেডএম/ |