
|
নিরপরাধ ইমাম সাহেবের সঙ্গে এ কেমন আচরণ?
প্রকাশ:
১৬ মে, ২০২৬, ০৮:০৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী || আপন ভাই যে বোনকে প্রেগন্যান্ট করে নিরীহ নিষ্পাপ ইমাম সাহেবকে জেল খাটিয়েছেন। থানা পুলিশ রিমান্ড মিডিয়া ট্রায়াল করেছেন। যেসব মমতাহীন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভিউ ব্যবসায়ী ইউ টিউবার প্রতিযোগিতা করে ইমাম সাহেবের সম্মান জব পরিবার ও স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছেন। যেসব এমেচার প্রফেশনাল জাতীয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া প্রতিনিধি শত শত কল করে ইমাম ও আলেমদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছেন। যাদেরকে মতামত মন্তব্য জবাব ও তথ্য দিতে দিতে সারাদেশের ইমাম আলেম এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের আক্রমণাত্মক ভূমিকা ও অতি উৎসাহী কৃতকর্মের জন্য এখন তাদের অভিব্যক্তি কী? নিরপরাধ ইমামের নামে মিথ্যা অপবাদ গিবত প্রচারের কবিরা গোনাহের কাফফারা কীভাবে করবেন? এর মাধ্যমে কামানো হারাম উপার্জনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দুনিয়া আখেরাতে কীভাবে বাঁচবেন? ইমাম সাহেবের কারামুক্তির পর তারা কি সমপরিমাণ প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের পূর্ব ভূমিকার ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা করেছেন? ডিএনএ পরীক্ষার পর যখন মজলুম ইমাম নির্দোষ প্রমাণিত হলেন তখন আপনারা তার পক্ষ নিয়ে কী কী করেছেন? ছোট্ট ভিকটিমকে তার আপন বড় ভাই দিনের পর দিন নিজের লালসার শিকার বানিয়ে প্রেগন্যান্সির পর শারীরিক পরিবর্তন দেখে যত দোষ নন্দ ঘোষ নিরীহ হুজুরের ওপর তোহমত বা অপবাদ চাপিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। যেমন সমাজে নিরীহ হওয়ায় শিশুকন্যা হত্যা ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত, এমনকি মূল আসামি খুঁজে না পাওয়ায় এর পরও মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন খাদেমকে জেল হাজতে পড়ে থাকতে হয়। শত সহস্র অপমান কর্মচ্যুতি পরিবার পরিজনদের নিগ্রহ, রিমান্ড জেল আদালত কাঠগড়া পেরিয়ে হুজুর যখন নির্দোষ প্রমাণিত হলেন তখন তো তাঁর জীবনের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে। এর কি কোনো ক্ষতিপূরণ সম্ভব? যদি তাঁর দোষ প্রমাণিত হতো তাহলে তাঁর সগোত্রীয় গোটা বাংলাদেশের সাড়ে চার লাখ ইমাম ও মসজিদ সংশ্লিষ্ট আরো লক্ষ কোটি মানুষের একজনও তাঁর পক্ষে দাঁড়াতেন না। কিন্তু ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা অভিযোগ শোনার সাথে সাথে যেসব মানুষ তাঁকে পাপী অপরাধী বলে গালি দিলেন, ঘৃণা ছড়ালেন, শাস্তি দিলেন, নিজের হাতে থাকা মিডিয়া ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী তাঁর গিবত অপবাদ ও বদনাম ছড়ালেন, তারা এসবের কী প্রায়শ্চিত্ত করবেন? কিয়ামত দিবসে আল্লাহর দরবারে এ দায়িত্বহীন আচরণের কী জবাব দেবেন? এই ইমাম আজ মানুষ পরিবেশ প্রতিবেশ রাষ্ট্র সমাজ ও সরকারের তাড়াহুড়ার সিদ্ধান্তে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং পূর্ণ পাগল। আপন পর সবাইকে ভয় পান। ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা ভাঙচুর করেন। পরিচিত জনের বা কিছু মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষের সহযোগিতা পেয়ে রাজধানীর মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন। একজন সজ্জন চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থার ভার নিয়ে জাতিকে লজ্জা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। যারা এই সম্মানিত নিরপরাধ নিরীহ ও মারাত্মক পর্যায়ের জুলুমের শিকার ইমাম সাহেবের জন্য কিছু করতে চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি জাতির সশ্রদ্ধ সালাম। সাধারণ জনগণ, ভিভিআইপি বা হুজুর মানুষ, অপরাধ যেই করুক, আমরা প্রতিটি অপরাধের বিরুদ্ধে। শাস্তি সবার জন্য সমান। কিন্তু নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি যেন আমাদের দিয়ে না হয়, এমন প্রত্যয় এবং সতর্কতা থাকা মানুষ হিসাবে আপনার আমার প্রত্যেকের দায়িত্ব। অভিযোগ আসা মাত্রই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। প্রমাণিত হলে আইন ও শাস্তি সবার জন্য সমান। কিন্তু মিথ্যা মামলা, উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ, তোহমত, সাজানো ঘটনা ও বাস্তব অপরাধ, আলাদা হয়ে আসল সত্য বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্বশীল মানুষের আচরণ করতে হবে। লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট, বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক জেডএম/ |