
|
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক: খেলাফত মজলিস
প্রকাশ:
১৪ মে, ২০২৬, ০৪:৩৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
দেশে ক্রমবর্ধমান অপরাধ, সীমান্ত হত্যা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা হতাশাজনক এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমীরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বারবার সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’-এর অপচেষ্টারও অভিযোগ তোলা হয়। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নিহত হলেও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখনো তলব না করায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করেন নেতারা। তারা অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ দিন দিন বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগও বাড়ছে। এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করা হয়। বৈঠকে ফেনী, সিলেট ও রংপুরসহ বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পদ্মা ও তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ব্যারেজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে নেতারা বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে; তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকার রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বৈঠকে জুলাই গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। জেডএম/ |