লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬, নতুন উচ্ছেদ হুমকি
প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ০৫:৪২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

লেবানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ছয়জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ার মধ্যেই নতুন করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

গতকাল (সোমবার, ১১ মে) রাতে দক্ষিণ লেবানের কফার দৌনিন এলাকায় হামলাটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই এলাকায় হামলার পর আরও সাতজন আহতকে উপকূলীয় শহর টাইরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও প্রায় প্রতিদিনই লেবানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একই সময়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টা গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তারা লেবানে এক হাজারের বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে।

লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময়েই অন্তত ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন। আর মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটিতে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে।

সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক নতুন উচ্ছেদ নির্দেশনা জারি করেন। এতে বেকা উপত্যকার সোহমর এবং দক্ষিণ লেবানের আরজুন, তাইর দেব্বা, বাজুরিয়েহ ও আল-হাউশ এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে লেবানের দেইর মিমাস এলাকায় একটি পানি পাম্পিং স্টেশন ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি বিনতে জবেইল এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ লেবানে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আগের দফার বাস্তুচ্যুতির পর যারা নিজ এলাকায় ফিরে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই আবার এলাকা ছাড়তে রাজি নন।

এদিকে লেবানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আইও/