যুক্তরাষ্ট্রে ফের উর্ধ্বমুখি জ্বালানি তেলের দাম, বেড়েছে ৫২ শতাংশ
প্রকাশ: ০৭ মে, ২০২৬, ১২:১১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে ৫২ শতাংশ দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানের এক গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম গত এক সপ্তাহে ৩১ সেন্ট বেড়েছে। বুধবার গড়ে এই দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।  

বুধবার (০৬ মে) অ্যাসোসিয়েট প্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে সংঘাত কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কমছিল। এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের বৈশ্বিক জ্বালানি বিপনন বিভাগের পরিচালক রব স্মিথ বলেন, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর মনে হচ্ছিল সংঘাত হয়তো শেষের দিকে যাচ্ছে। সেই আশাবাদে তেলের দাম কমেছিল। এ সময়ে গ্যাসোলিনের খোলা বাজারের দরও কমে গিয়েছিল এবং খুচরা বিক্রেতারাও দাম কমিয়েছিল। কিন্তু পরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ সংকট আরও গভীর হয়, ফলে জ্বালানি তেলের দামে এই ‍উর্ধ্বগতি।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চাহিদা মেটাতে একটি মৌলিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি যতদিন সীমিত থাকবে, ততদিন বাজারে দাম বাড়ার চাপ থাকবে। সরকার বা বাজারের কারও বক্তব্যে এটি বদলাবে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেট্রোল পাম্পের মালিকরা জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করেন, তবে তার পেছনে অনেক উপাদান কাজ করে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসোলিনের মূল উপাদান হলো অপরিশোধিত তেল। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে গ্যাসোলিনের দামের প্রায় ৫১ শতাংশ ছিল তেলের দামের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, তেলের দাম বাড়লে গ্যাসোলিনের দামও সাধারণত বাড়ে। বাজারে তেল কম থাকলে দাম আরও বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে এপ্রিলের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনার কাছাকাছি পৌঁছালে বুধবার দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নামে। এতে করে গ্যাসোলিনের দামও কিছুটা কমতে পারে।

জেডএম/