পাকিস্তানের পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা, আরাঘচির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও দেশটিতে পৌঁছেছেন।

এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার আশা দেখা দিচ্ছে।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জানিয়েছেন, মার্কিন দূতরা আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বসবেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ একটি চুক্তির দিকে ‘এগিয়ে যাবে’। তবে ইরানি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার এক্সে আরাঘচি লিখেছেন, তিনি ইসলামাবাদ, মাস্কাট ও মস্কো সফরে যাচ্ছেন। তিনি একে একটি ‘সময়োপযোগী সফর’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সমন্বয় করাই এর লক্ষ্য।

তবে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার কোনো নির্দিষ্ট ইচ্ছার কথা তিনি সেখানে উল্লেখ করেননি।

তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, ইরান মার্কিন চাহিদাগুলো পূরণের লক্ষ্যে একটি ‘প্রস্তাব দিচ্ছে’, যার মধ্যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ইরানের সামনে একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ আছে। তিনি বলেন, ‘ইরান জানে যে আলোচনার টেবিলে বসে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এখনো তাদের কাছে রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, তাদের যা করতে হবে তা হলো একটি ‘অর্থবহ এবং যাচাইযোগ্য উপায়ে’ পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করা।

তবে পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর হবে সংক্ষিপ্ত। এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের কিছু প্রস্তাব তুলে ধরা, যা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান পরে ওয়াশিংটনকে জানাবে।

অন্যদিকে তেহরান থেকে আল জাজিরা জানিয়েছে, একজন ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা’ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা হবে না।

শীর্ষ আলোচকরা অনুপস্থিত

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আরাঘচির এ সফরের খবরে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফের কোনো উল্লেখ নেই। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে হওয়া আলোচনায় তিনি ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন, যদিও সেই আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গালিবফ ইরানের আলোচক দলের প্রধান হিসেবে পদত্যাগ করেছেন বলে যে খবর রটেছিল, ইরানের পার্লামেন্টের মিডিয়া অফিস তা অস্বীকার করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নিলেও এবার তিনি পাকিস্তানে যাচ্ছেন না। তবে লেভিট জানিয়েছেন, ভ্যান্স এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে ‘গভীরভাবে জড়িত’ এবং প্রয়োজন পড়লে তিনি আলোচনায় যোগ দিতে ‘প্রস্তুত’ আছেন।

লেভিট বলেন, ট্রাম্প মূলত ‘ইরানিদের কথা শোনার জন্য’ উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘গত কয়েক দিনে আমরা ইরানিদের পক্ষ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করেছি।’

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরা জানিয়েছে, বর্তমানে একটি ‘ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়া’ চলছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি একটি ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানমূলক পর্যায়’। যা আলোচনা আরও গভীর হলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রূপ নিতে পারে।

মঙ্গলবার থেকে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। ইরান জানিয়েছে যে তারা এখনই আলোচনায় যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত নয়।

মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখলেও আলোচকদের নতুন করে একত্রিত করার জন্য ট্রাম্প মঙ্গলবার একতরফাভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্প তাদের ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা থেকে সরে আসবে না। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করেছে। তেহরানের অর্থ জোগাড় ও লেনদেনের সক্ষমতা পদ্ধতিগতভাবে কমিয়ে আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

জেডএম/