শামসুদ্দীন সাদী অনূদিত ১৩০০ পৃষ্ঠার শরহে বেকায়ার শরাহ বাজারে
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:১৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

ফিকাহশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ কিতাব এবং কওমি ও আলিয়া মাদরাসার পাঠ্য শরহে বেকায়ার দুই খণ্ডের একটি শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ বাজারে এসেছে। প্রায় ১৩০০ পৃষ্ঠার শরাহটি অনুবাদ করেছেন মুফতি শামসুদ্দীন সাদী। তিনি রাজধানীর কারওয়ানবাজারের জামিয়া আম্বরশাহর সিনিয়র উস্তাদ। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের সহসম্পাদক এবং লেখা ও লেখকের কথা নিয়ে প্রকাশিত সাড়া জাগানো সাময়িকী লেখকপত্রের সহযোগী সম্পাদক।

হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ শরহুল বিকায়ার অনুবাদ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম ‘আহসানুর রিওয়ায়াহ ফি হল্লি শরহিল বিকায়া’। এর মূল লেখক: উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ইবনে তাজুশ শরিয়াহ (মৃত্যু : ৭৪৭ হিজরি)। শরাহটি প্রকাশ করেছে বাংলাবাজারের ইসলামি টাওয়ারের দারুল উলুম লাইব্রেরি।

‎‎অনুবাদক দীর্ঘদিন কিতাবটি পাঠদান করছেন। সেই আলোকে প্রায় আট বছরের নিরলস সাধনায় তিনি ব্যাখ্যাগ্রন্থটি লিখেছেন। এতে রয়েছে আরবি প্রতিটি শব্দের অর্থ, মূলানুগ সরল অনুবাদ, প্রতিটি মাসয়ালার শুরুতে শিরোনাম সংযোজন, বিভিন্ন মাসয়ালায় ফকিহদের মতামত ও দলিল, কোরআন হাদিস ও ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের রেফারেন্স। এই গ্রন্থে প্রতিটি মাসয়ালা সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হয়েছে, যেন একজন সাধারণ পাঠকও তা অতি সহজে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে।

‎‎কিতাবটি মোট দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম খণ্ডে পবিত্রতা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত সম্পর্কিত মাসয়ালা। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে বিবাহ, তালাক, ডিভোর্স, মহরানা, ঈলা, জেহার, লেয়ান, খোরপোষ সম্পর্কিত মাসয়ালা।  ‎প্রথম খণ্ডের পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮৩২; মূল্য ১৪০০ টাকা। আর ‎দ্বিতীয় খণ্ডের পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭২; মূল্য ৯০০ টাকা।

‎বিশাল এই ইলমি কাজ সম্পর্কে মুফতি শামসুদ্দীন সাদী বলেন, শরহুল বিকায়া কিতাবটি হানাফি ফিকাহর সুপ্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য একটি গ্রন্থ। গ্রন্থটি আরবি ভাষায় রচিত। বাংলা ভাষী শিক্ষার্থীদের অনেকেই মূল আরবি গ্রন্থ থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য বাংলা ভাষায় এর ভালো মানের ব্যাখ্যা ও আনুবাদের অভাব অনুভব করছিল। যদিও বাজারে পূর্ব থেকেই কিছু অনুবাদ ছিল, কিন্তু সেগুলোতে নানা অসঙ্গতি থাকার কারণে জটিল ও কঠিন মাসয়ালাগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।

তিনি বলেন, ‎আমি নিজেও কিতাবটির পাঠদান করতে গিয়ে তার ভুক্তভোগী হই। সেই অভাব পূরণের জন্যই মূলত এই গ্রন্থের অবতারণা। তারপর দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন-অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রন্থটি রচনা করি। বহুদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ফটোকপি করে পাঠ করছিল। এখন তা গ্রন্থাকারে ছেপে এসেছে। এজন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

আইও/