
|
কাল আমেলার বৈঠক, দল চাঙা করতে চায় জমিয়ত
প্রকাশ:
১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
বিশেষ প্রতিনিধি বিগত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির চারজন প্রার্থী বিএনপির সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেন। তবে কেউই জয়ের দেখা পাননি। ফলে চলতি সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। বিএনপির মতো বড় দলের সমর্থন পাওয়ার পরও সংসদে একজন সদস্যও যেতে না পারায় হতাশা রয়েছে জমিয়তের ভেতরে-বাইরে। নির্বাচনের পর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জমিয়ত সেই হতাশা থেকে বের হতে পারেনি। দলটির দৃশ্যমান তেমন কোনো কর্মসূচিও নেই। এই অবস্থায় আগামীকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) মজলিসে আমেলার বৈঠক ডেকেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। পুরানা পল্টনের কার্যালয়ে দলের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জমিয়ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী আওয়ার ইসলামকে মজলিসে আমেলার বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা হবে আমেলার মিটিংয়ে। এদিকে জমিয়তের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় আওয়ার ইসলামের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেতারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে না পারার হতাশা রয়েছে। তবে এখন দলটি ঘুরে দাঁড়াতে চায়। নেতাকর্মীদের মাঠের রাজনীতিতে চাঙা করার কৌশল খোঁজা হচ্ছে। সে বিষয়েই আলোচনা হবে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে। নেতারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দল চাঙা করার কৌশল খোঁজা হচ্ছে। জমিয়ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে। প্রার্থী বাছাইসহ দলের কৌশল ঠিক করা হবে বৈঠকে। দলের একটি সূত্র জানায়, আগামীকালের বৈঠকে জমিয়তের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে। বিএনপি জোটের সঙ্গে থাকার পরও তাদের কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না কিংবা বিএনপির কাছে কীভাবে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা হবে। দলটির নেতারা মনে করছেন, বিএনপি তাদের সঙ্গে জোট করে ব্যাপক উপকৃত হলেও জমিয়তকে কোনো মূল্যায়ন করেনি। নির্বাচনের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে জমিয়ত অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছে। মন্ত্রিত্ব কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রাপ্তির ব্যাপারে জমিয়ত প্রত্যাশা করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এটার সুরাহা করতে বিএনপির সঙ্গে লিয়াজোঁর জন্য দলের কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এদিকে দলের একটি অংশ মনে করছে, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার কারণে মাঠের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের কোনো কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় কীভাবে মাঠের রাজনীতিতে দলকে সক্রিয় করা যায় সেটা নিয়ে নেতারা তাদের মতামত দেবেন। তবে এখনই বিএনপি জোটের সঙ্গ ত্যাগের কথা তারা ভাবছেন না। যদিও বিএনপির কাছ থেকে অবমূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে নেতাদের কারও কারও মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। আইও/ |