দুরুদ পাঠ: নবীজির প্রতি ভালবাসার প্রকাশ
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মুহাম্মাদুল্লাহ মাবরুর ||

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবজাতির জন্য আল্লাহর দেওয়া এক শ্রেষ্ঠ উপহার। তিনি ছিলেন ঘোর আঁধারে দীপ্ত প্রদীপ। ভ্রান্ত মানুষের পথের দিশা৷ মরুর উত্তপ্ত বালুর মাঝেও তাঁর চরিত্র ছিল শীতল ছায়ার মতো। তিনি ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে ছিলেন শত্রুকেও। মুমিনদের ভাবনায় সব সময় তার হৃদয় ছিল ব্যাকুল ও বেকারার। উম্মতকে স্নেহের ডানায় আগলে রেখেছিলেন সবসময়। পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েও বদদোয়া করেননি কখনো। নিজে কষ্টের পাহাড় বুকে চাপিয়ে রেখেছেন কিন্তু উম্মতের কষ্ট তার কাছে ছিল অসনীয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেন لقد جاءكم رسول من انفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رؤوف رحيم  অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল আগমন করেছেন। যাঁর কাছে তোমাদের কষ্ট  অসহনীয়। তিনি তোমাদের জন্য ব্যাকুল। তিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়া পরশ ও পরম মেহেরবান।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ১২৮)

উল্লেখিত আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, তিনি উম্মতের জন্য কত পেরেশান  ছিলেন । অন্তিম মুহূর্তেও তিনি উম্মতকে ভুলেননি। যখন আমাদের প্রতি নবীজির অনুগ্রহ সর্বপেক্ষা বেশি। এমনকি নিজের পিতা-মাতার চেয়েও বেশি সুতরাং আমাদেরও কর্তব্য নবীজির ভালোবাসার সম্মান রক্ষা করা। তার সুন্নাত ও উত্তম আদর্শের অনুসরণ করা। তার রঙে আমাদের জীবনকে রাঙানো। বেশি-বেশি দুরুদ পাঠ করা। কেননা, একজন মুমিন অধিক পরিমাণে দুরুদ পাঠের মাধ্যমে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসার সাগরে অবগাহন করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন إلله وملائكته يصلون على النبي يا ايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما  অর্থাৎ, ‘স্বয়ং আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ নবীজির উপর সালাত প্রেরণ করেন অতএব মুমিনগণ তোমরাও নবীজির উপরে অধিক পরিমাণে সালাম এবং দুরুদ প্রেরণ করো।

দুরুদ পাঠের ফজিলত—

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন من صلى علي صلاة صلى الله عليه بها عشرا অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করবে আল্লাহ তার প্রতি ১০ টি বিশেষ রহমত নাজিল করবেন। সহিহ মুসলিম। অপর এক হাদিসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি দিলের ইখলাসের সাথে আমার প্রতি একবার দুরুদ প্রেরণ করবে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশটি রহমত প্রেরণ করবেন। তার ১০ টি মর্তবা উন্নতি করবেন এবং তার  দশটি গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং দশটি নেকি লিখে দিবেন। (বায়হাকি, হাদিস: ১৭৬)

এছাড়াও দরুদ পাঠের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত রয়েছে।

দুরুদ পাঠের সময়—

১. জুমার দিন। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন। এই দিনে বেশি বেশি দুরুদ পড়া উত্তম। বিশেষ করে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অধিক পরিমাণে পাঠ করা।

২.  প্রতিদিন সকালে ১০ বার এবং সন্ধ্যায় দশবার পাঠ করা।

৩.আজানের পর প্রথমে দুরুদ পড়া, অতঃপর আজানের প্রসিদ্ধ দোয়াটি পড়া।

৪. দোয়ার শুরুতে দরূদ পড়া।

৫. মসজিদে প্রবেশের সময় এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দরূদ শরীফ পড়া।

৬.কোথাও নবীজির নাম লিখলে বা শুনলে দুরুদ পড়া।

৭. কখনো গুনাহ হয়ে গেলে ইস্তেগফারের পূর্বে দুরুদ পড়া।

হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি দুরুদ শরীফ—

 1.اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم على آل إبراهيم إنك حميد مجيد

  1. اللهم صل على محمد وعلى آل محمد
  2. صلى الله على النبي الالأم
  3. صلى الله عليه وسلم

এছাড়াও হাদিসে অনেক দুরুদ শরিফের কথা বর্ণিত আছে।যেটা সহজ মনে হয় একটি পরলেই হবে ।  

মোটকথা, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে দুরুদ পাঠ স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শাফায়াতের ওসিলা। এজন্য আমাদের প্রত্যেকের উচিত সব সময় নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরে দুরুদ পাঠ করার চেষ্টা করা। এবং আমাদের ওপর নবীজির যে সীমাহীন ইহসান ও অনুগ্রহ রয়েছে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অধিক পরিমাণে দুরুদ পাঠ করার তাওফিক দান।

জেডএম/