কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫৬ রাত
নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে আবারও কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন। একইসঙ্গে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বুড়িচং উপজেলার ‘ময়নামতি’ ইউনিয়নকে নতুন একটি উপজেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিন বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন।

আলোচনার শুরুতেই তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে বিগত সরকারের দুই দশকের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। আমার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৫ এবং সামগ্রিকভাবে কুমিল্লার মানুষের ৪২ বছরের প্রাণের দাবি হলো কুমিল্লা বিভাগ। এই বিভাগ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, সংসদে হাসি-তামাশা করা হয়েছে এবং কালক্ষেপণ করা হয়েছে; কিন্তু কুমিল্লার নামে বিভাগ করা হয়নি। আমরা বৃহত্তর কুমিল্লার প্রাণের দাবি ‘কুমিল্লা বিভাগ’ চাই। 

কুমিল্লা শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুমিল্লা শহর যানজটের কবলে ছিল, চলাচলের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তার নির্দেশনায় কুমিল্লার প্রশাসক কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যে যানজট অনেকটা নিরসন হচ্ছে।

এই সংসদ সদস্য বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৫ অত্যন্ত অবহেলিত। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কুমিল্লার গোমতী নদীর পাড় ও বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুমিল্লার সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মনিরুল হক চৌধুরীসহ কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের প্রাণের দাবি হলো এই বিভাগ।

ময়নামতিকে উপজেলা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নামতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা। জিয়াউর রহমান যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনই ময়নামতিকে উপজেলা করার দাবি ছিল। এ ছাড়া আমাদের সীমান্তবর্তী একটি সড়ক যেটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে দূরত্ব ২০ কিলোমিটার কমিয়ে দেয়, সেটি একনেকে পাস হলেও আজ পর্যন্ত কাজ হয়নি। আমার দুই উপজেলার সংযোগ সড়কটি মাত্র ১০ ফিট চওড়া, যা চলাচলের অনুপযোগী।

জসিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক জনসভায় ইপিজেড করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ময়নামতিতে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। বর্তমানে জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। আমি বিনীত অনুরোধ করছি যেন এই ৫০ একর জমির ওপর একটি ছোট ইপিজেড করা হয়। বন্যায় আমার এলাকার রাস্তাঘাট ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তখন জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভাইস প্রেসিডেন্টসহ সব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রতি সপ্তাহে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। আমি দ্রুত এই রাস্তাগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য যোগাযোগমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ছাড়া সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আইও/