
|
‘এবার প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন হওয়ায় হজযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে ইনশাআল্লাহ’
প্রকাশ:
১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৯ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
ইসলামের পাঁচ রোকনের অন্যতম হজ। যেখানে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন শারীরিক সক্ষমতাও। এ বছর নতুন-পুরাতন অনেকেই হজে যাচ্ছেন। আগামী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে সৌদিগামী হজ ফ্লাইটের যাত্রা। এই শেষ সময়ে হজ ট্রাভেলসগুলোর প্রস্তুতি কেমন চলছে বা কতটুকু হয়েছে, তা জানতে রাজশাহী ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমানের মুখোমুখি হয়েছেন আওয়ার ইসলামের সহ-সম্পাদক ইমরান ওবাইদ। এ বছর হজের প্রস্তুতি কেমন চলছে বা কতটুকু হয়েছে? আলহামদুলিল্লাহ, এ বছর হজের প্রস্তুতি তিন মাস আগেই সম্পন্ন হয়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষেই মক্কা-মদিনার হোটেল এবং যাবতীয় চুক্তি (এগ্রিমেন্ট) শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আমাদের সকল এয়ার টিকিটের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে এবং মার্চ মাসের মধ্যে আমাদের সকল হজ ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। এখন অল্প দু-একটি ভিসা বাকি আছে, যা পর্যায়ক্রমে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বলতে পারি—হাজিদের নেওয়ার জন্য এখন আমরা ফ্লাইট নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত। এ বছর কতটা নির্বিঘ্নে হাজিগণ হজ পালন করতে সক্ষম হবেন বলে আপনি মনে করেন? আশা করি অন্য বছরের তুলনায় এ বছর হাজিগণ আরও ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। সৌদি সরকার এবার হাজিদের হজের পরিবেশ সুন্দর করার জন্য সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। এমনকি বহিরাগতদের মক্কা থেকে বের করার নির্দেশ দিয়েছে। হাজিদের জন্য হজের মাসয়ালা-মাসায়েল জেনে হজে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ? হজ একটি ফরজ ইবাদত। যেখানে শারীরিক ও আর্থিক—উভয় সক্ষমতার প্রয়োজন হয়, সেখানে মাসয়ালা জানা অত্যন্ত জরুরি। আমরা যারা বেসরকারিভাবে হাজিদের নিয়ে যাই, আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব সম্পর্কে ধারণা দিই। কীভাবে হজ করলে তা নবীওয়ালা হজ বা সাহাবায়ে কেরামের মতো হজ হবে, সেই দিকনির্দেশনা আমরা দিয়ে থাকি। হজের মাসয়ালা-মাসায়েল না জেনে বা প্রশিক্ষণ না নিয়ে হজে গেলে হাজিগণ কী কী সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আপনি মনে করেন? মাসয়ালা-মাসায়েল আগে থেকে না জেনে গেলেও হাজিগণ খুব একটা সমস্যায় পড়বেন না। কারণ হাজিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক গাইড থাকেন। এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে মক্কা-মদিনার হোটেল কিংবা ওমরাহ পালনের সময় আমাদের গাইডরা হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে হজের কাজ সম্পন্ন করান। এছাড়া যারা শুরুর দিকে সৌদি আরব যান, তারা অনেক সময় পান। আমরা সেখানে প্রতিদিন নাস্তার পর এক ঘণ্টা মাসয়ালা তালিমের ব্যবস্থা রাখি; ফলে সেখানে অবস্থানকালেও তারা প্রয়োজনীয় মাসয়ালা শিখে নিতে পারেন। আপনাদের এজেন্সির মাধ্যমে যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের প্রস্তুতি কেমন বা তারা হজে যাওয়ার জন্য কতটা প্রস্তুত? যারা প্রথম দিকের ফ্লাইটে যাবেন, তাদের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আর যারা শেষের দিকে যাবেন, তাদের সরকারিভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমরাও আমাদের গ্রুপ অনুযায়ী এই মাসের শেষ দিকে (২৭-২৮ তারিখ) কোনো একটি হোটেলে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। তবে বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে অনেকে কিছুটা চিন্তিত যে সফরে কোনো সমস্যা হবে কি না। আমরা তাদের অভয় দিয়েছি যে, মক্কা-মদিনাকে আল্লাহ তায়ালা সবসময় নিরাপদ রেখেছেন। আর মৃত্যু যদি আল্লাহ লিখে রাখেন, তবে বাংলাদেশে থাকলেও কেউ তা আটকাতে পারবে না। আপনাদের গাইডদের প্রস্তুতি কেমন? আমাদের সব গাইডই আলেম এবং অনেকেই মুফতি সাহেব। তারা সবসময় সচেষ্ট থাকেন যেন হাজিদের কোনো কষ্ট না হয় এবং মাসয়ালার কোনো খেলাফ (ভুল) না হয়। সৌদি সরকারও প্রতি বছর হজ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করছে, যাতে হাজিরা সর্বোচ্চ সুবিধা পান। হাজিদের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো নসিহত বা পরামর্শ আছে কি? আমার নসিহত হলো—আমাদের দেশের অনেক হাজি সাহেব হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর অনেক আগে সেখানে পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে অনেকেই অযথা গল্পগুজব করে মূল্যবান সময় নষ্ট করেন। হজের সফরের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত পবিত্র ও মূল্যবান। তাই এই সময়ে আজেবাজে কথা না বলে বেশি বেশি ইবাদত, কুরআন তেলাওয়াত এবং জিকিরে মশগুল থাকা উচিত। হজের মর্যাদা রক্ষায় হাজিদের আরও সচেতন হতে হবে। আইও/ |