এবার ‘বাব আল-মান্দেব’ বন্ধের হুমকি ইরানের, যে প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব-বানিজ্যে
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন,প্রয়োজনে বাব আল-মান্দেব প্রণালীও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যেমনটি কার্যত করা হয়েছে হরমুজ প্রণালীতে।

গত রোববার (০৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর ভেলায়েতি বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্টের ঐক্যবদ্ধ কমান্ড বাব হরমুজের মতোই দেখছে আল-মান্দেবকে ।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, হোয়াইট হাউস যদি ‘বোকামি’ পুনরাবৃত্তি করে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের প্রবাহ নিমেষেই থামিয়ে দেওয়া সম্ভব।

এই বক্তব্য এসেছে ঠিক এমন সময়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোয় হামলা চালাবে!

কোথায় এই ‘বাব আল-মান্দেব?’

বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এর এক পাশে রয়েছে ইয়েমেন, অন্য পাশে আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়া।

মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রস্থের এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে বিপুল পরিমাণে বানিজ্যিক জাহাজ।

কেনো এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের অন্যতম নৌপথগুওলার একটি এটি। ২০২৪ সালে প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৫ শতাংশ।

শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।

এশিয়া, বিশেষ করে চীন ও ভারতের পণ্য ইউরোপে পৌঁছাতে এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালী আংশিক অচল হয়ে পড়ার পর এর গুরুত্ব এখন আকাশ ছুঁইছুঁই। সৌদি আরব এখন ক্রমেই তাদের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে লোহিত সাগর হয়ে তেল পাঠাচ্ছে, যার বড় অংশই এই প্রণালী দিয়ে যায়।

কীভাবে বন্ধ হতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ?

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আগেও এর প্রমাণ দিয়েছে। হুথি আন্দোলন গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজ লক্ষ করে হামলা চালিয়ে কার্যত এই রুটে চলাচল ব্যাহত করেছিল।

 

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি জাহাজে হামলা চালালেই বীমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, ফলে পুরো রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে এ পথ বন্ধের?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে সংকট তৈরি হলে তা হবে ‘দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতি’। এতে ইউরোপমুখী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশই এই দুটি পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে।

এর প্রভাব পড়বে সর্বত্র। কারখানার উৎপাদন থেকে শুরু করে রান্নাঘরের খরচ, এমনকি পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ হুথিদের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করলেও, এতে সৌদি আরব বা বৃহত্তর আন্তর্জাতিক জোটের পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে; যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে।

জেডএম/