৩০ উপজেলা ও পৌর এলাকায় আজ থেকে দেওয়া হচ্ছে হামের টিকা
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আজ (রোববার ০৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও পৌর এলাকায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রথম ধাপে এ টিকার আওতায় আনা হবে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি সব শিশুদের। তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক, টিকা পাবে সবাই।

গত শনিবার (০৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪২ জনের এই রোগ শনাক্ত হয়েছে; আর হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪৭ জন।

এক দিনে হামের লক্ষণ নিয়ে সবচে’ বেশি ৩১৫ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম ৪২ জন ভর্তি হয়েছেন রংপুরের হাসপাতালগুলোতে।

আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয় ওই বুলেটিনে। আর গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে শুক্রবার (০৩ এপ্রিল)  পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৯৪ জনের। তবে ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের এই প্রাণঘাতি প্রাদুর্ভাবের মধ্যে হাম-রুবেলার জরুরি টিকা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় সরকার।

প্রথম ধাপে যেসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকা কার্যক্রম শুরু হবে, সেই তথ্য শনিবার (০৪ এপ্রিল) তুলে ধরে মন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, “জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (এনআইটিএজি) একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে।”

লিখিত সেই বক্তব্যে বলা হয়, ‘এই কার্যক্রম একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস মানে পাঁচ বছরের চাইতে এক মাস কম, এই গ্রুপটাকে আমরা কাল থেকে টিকাদান শুরু করতেছি। এটাকে খুব শিগগির কাভার করতে চাচ্ছি সারাদেশে।’

 

তিনি এও বলেন, ‘এই ৩০টা উপজেলা শুরু করা মানে আমাদের কার্যক্রম শেষ না। আমরা এটাকে যেহেতু এখানে প্রবল আকার ধারণ করেছে। এটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাকিগুলিতে আমরা কাজে অগ্রসর হব। ইনশাআল্লাহ, কোনোটাই থেমে থাকব না।’

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে। পরে রোগের পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে তা ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে টিকা নিতে আসা সুস্থ শিশুদের এটি দেওয়া হবে না।

স্কুল, মাদ্রাসা, শ্রমঘন এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতেও টিকাদান কেন্দ্র হতে পারে বলেও ব্রিফিংয়ে ইঙ্গিত দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জেডএম/