
|
তাপপ্রবাহ: রোগ-বালাই থেকে বাঁচতে যা করণীয়
প্রকাশ:
০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০২ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
যাকারিয়া মাহমুদ
চৈত্র চলমান। গ্রীষ্মকাল এখনো শুরু হয়নি। তবে এরই মধ্যে দেখা মিলছে গ্রীষ্মের রৌদ্রমূর্তি। চারদিকে হু হু করে বাড়ছে তাপমাত্রা। লু-হাওয়া বইছে শহর-নগর ছাড়িয়ে বৃক্ষঘেরা গাঁও-গেরামেও। একটুখানি শীতলতার জন্য শুধু মানুষই নয়; হাহাকার করছে পশুপাখির প্রাণও। গ্রাম-গঞ্জে গাছগাছালির ছায়া থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, মিলছে না শহরবাসীর। এর উল্লেখযোগ্য কারণ, এখানকার বসতি ঘন অথচ সে অনুযায়ী নেই জীবনযাত্রার সুষ্ঠু পরিবেশ। এজন্য প্রতি গরমেই শহর থেকেই সূচনা হয়, নানা রোগ ও মহামারির। অবশ্য গ্রামেও সেসব রোগ-ব্যাধির প্রভাব কম নয়! তাই গরমের তীব্রতা ও এর থেকে সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে বাঁচতে, শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবাইকেই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি। যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি— ১. প্রথমত, পানিশূন্যতা কাটানো—অধিকাংশ রোগের সূচনা হয় পানিশূন্যতা থেকে। গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ঝরে যায় ঘামের সঙ্গে। ফলে শরীরে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। এসময় কেউ যদি পানি না খায় তাহলে এই শূন্যতা থেকে দেখা দিতে পারে না রোগ। তাই এসব রোগ থেকে বাঁচতে, দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন। পানিশূন্যতা কাটাতে, তরল খাবার যেমন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন ইত্যাদি গ্রহণ করা যেতে পারে। এসব শরীরের লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে, অতিরিক্ত চা, কফি এবং চিনিযুক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে দেয়। ২. রোদ ও তাপমাত্রা থেকে সুরক্ষা—এই গরমে রোগ বালাই থেকে বাঁচতে, রোদ ও তাপমাত্রা থেকে বাঁচা অত্যন্ত জরুরি। তাই বাইরে বেরোনো সীমিত করুন। সাধারণত, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের তাপমাত্রা তীব্র থাকে। তাই এ সময়টা ঘর বা অফিসে অথবা কোনো ছায়াদার স্থানে কাটান। রোদে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া না-বেরোনোই ভালো। তবে যদি প্রয়োজন হয়ই, তাহলে ছাতা-সানগ্লাস নিয়ে বেরোন। এবং ধারাবাহিক কঠোর পরিশ্রম না-করে, মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিন। ছায়াযুক্ত স্থানে বসুন। শরীর ঠাণ্ডা করুন। তবে পরিশ্রম করে এসে বা অধিক রোদ থেকে এসে, সঙ্গে সঙ্গে গোসল করবেন না। এতে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়। এতেও শরীরে জ্বর-সর্দি-ঠান্ডাসহ দেখা দিতে পারে নানান রোগ। তাই রোদ থেকে এসে, কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিন। তারপর গোসল করুন। ৩. পোশাক পরিচ্ছন্নতা—হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। সাদা, সুতি বা পাতলা কাপড় তৈরি পোশাক পরতে পারেন। এতে শরীরের সর্বত্র বাতাস আনাগোনা করতে পারে। ঘামে কম। স্বাস্থ্য থাকে সতেজ। মোটা পোশাক পরলে, শরীর ঘেমে, বিভিন্ন স্থানে ঘা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ৪. শারীরিক পরিচ্ছন্নতা—শরীর ঠান্ডা রাখার প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার গোসল করা। তবে হ্যাঁ, পানি অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার হওয়া চাই। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে, শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে জ্বর-ঠান্ডাজনিত রোগ যেমন, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো ভয়ংকর রোগও হতে পারে। ৪. খাবার ও জীবনযাত্রা—হালকাপাতলা তাজা খাবার খান। ফল-ফলাদি, শাকসবজি ইত্যাদি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভাজাপোড়া , অতিরিক্ত তৈলাক্ত, রাস্তার খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে ডায়রিয়া ও জন্ডিসের মতো পানিবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। ৫. স্বাস্থ্য সুরক্ষা—যদি গরমের তীব্রতায় স্বাস্থ্যে কোনো খারাপ লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন, শরীরের তাপমাত্রা যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায়, প্রবল মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব, হঠাৎ ঘাম হওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাংসপেশিতে টান লাগা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই গরমেও আমাদের জীবন হোক সুন্দর ও সতেজ। হাসি-আনন্দে ভরে উঠুক চারপাশ। কারো জীবনে বিষাদ না-নামুক। না-আসুক শোকের জোয়ার। এই তো আরজি মহান রবের দরবারে! জেডএম/ |