নতুন শিক্ষাবর্ষে উস্তাদদের জন্য কিছু পরামর্শ
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১১ রাত
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতি আশিকুল ইসলাম ||

শুরু হয়েছে কাওমি মাদরাসার নতুন শিক্ষাবর্ষ। নবীন-প্রবীণ উস্তাদ-ছাত্রের এক অপূর্ব আলিঙ্গন ও নতুন পরিবেশ। ছোট-বড় সকলের উদ্দেশ্য একটাই, ইলেম অর্জন করা। কেউ নতুন করে শিখবে, আবার কেউ পূর্বের জ্ঞানকে ধার দিয়ে অজানাকে জানবে। 

নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষকদের জন্য কিছু পরামর্শ, আশা করি কাজে আসবে অনেকের:

১/ দরসের প্রথম কাজ নতুন ও পুরাতন ছাত্রদের সঙ্গে পরিচয়-পর্ব শেষ করে নেওয়া। যেন কোনো নতুন ছাত্র বিড়ম্বনায় না পড়ে। ছাত্র বেশি হলে কমপক্ষে নতুনদের পরিচয় লাভ করা।

আরও পড়ুন: কওমি সিলেবাসে ‘সিরাত’ অবহেলার শিকার হওয়া বেদনাদায়ক: মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

২/ ছাত্রের আমল, আখলাক ও পোশাকের ব্যাপারে সামান্য কথা বলা। প্রয়োজনে জোর তাকিদ দেওয়া।

৩/ গ্রাম থেকে আসা ছত্রদের অভয় দেওয়া, যেন তাদের মন ভেঙ্গে না যায়।

৪/ উস্তাদ নিজেকে ‘উস্তাদ বা হাইছিয়তে দোস্ত’ এর গুনে গুনান্নিত করে কথা বলা।

৫/ মাদরাসার প্রতিটি নিয়ম-কানুন সামনে রেখে কথা বলা। এবং প্রতিটি কানুনের প্রতি নিজে শ্রদ্ধাশীল থেকে ছাত্রদেরকে পালন করতে উৎসাহ দেওয়া।

৬/ যে কিতাব পড়ানোর দায়িত্ব আসবে তা আমানত মনে করে পড়ানো। কিতাব মন মতো না হলেও ছাত্রদের সামনে প্রকাশ না করা।

৭/ প্রথম দিন থেকেই কিতাবের পৃষ্ঠা বা অধ্যায় হিসেব করে তিন পরীক্ষার জন্য ভাগ করে নেওয়া। যেন সমানতালে পুরো বছর পড়ানো যায়।

৮/ প্রাথমিক আলোচনা এত দীর্ঘ না করা যে, কিতাবের মূল অংশে গিয়ে আসল কথা বলার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। আবার একেবারে সংক্ষিপ্তও না করা যে, জরুরি কথা ছুটে যায়।

৯/ প্রতিটি ছাত্রকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। ক্লাসে  কোনো ছাত্রকে বিশেষ দৃষ্টিতে না দেখা। হ্যাঁ, কোনো দুর্বল ছাত্র থাকলে তার থেকে আগে সবক আদায় করা।

১০/ কিতাবকে ফন হিসেবে পড়ানোর চেষ্টা করা। শুধু কিতাব মুখস্থ করানোর চেয়ে ফনকে বুঝিয়ে যোগ্য করে তোলা অনেক ফলপ্রসূ।

সর্বোপরি ছাত্রগণ উস্তাদদের কাছে আমানত। আমনতের যথার্থ কদর করা জরুরি।

লেখক: উস্তাদ, মারকাযুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া উত্তরবাড্ডা, ঢাকা।

আইও/