চার সপ্তাহ ধরে আল আকসায় জুমা বন্ধ
প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

মুসলিম উম্মাহর প্রিয় মসজিদে আকসা টানা চার সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এতে গত চারটি জুমার নামাজে অংশ নিতে পারেননি ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে মসজিদটি পুরোপুরি বন্ধ করে রাখে ইহুদিবাদী ইসরায়েল।

গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে পুরনো শহর ও আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে ইসরায়েল। এ সময় তারা সাধারণ মুসল্লিদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়। এমনকি মসজিদের আশপাশের রাস্তায় নামাজ পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন শত শত ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগম এড়াতে আল-আকসা বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু ওয়াকফ দপ্তরের হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ও পাহারাদার ছাড়া আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। শুধু আল-আকসা নয়, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান 'চার্চ অফ দ্য হলি সেপালকার' বা কিয়ামা গির্জাও বন্ধ করে রেখেছে দখলদার প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন স্ট্রিটসহ পুরনো শহরের কাছের রাস্তাগুলোতে নামাজ পড়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি পুলিশ মুসল্লিদের ধাওয়া দেয়। ওয়াদি হিলওয়াহ ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, পুলিশি বাধার মুখে অনেক মুসল্লি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও সিলওয়ান শহরের রাস আল-আমুদ এলাকায় রাস্তার ওপরই জুমার নামাজ আদায় করেন কিছু মানুষ। বর্তমানে আল-আকসায় যেতে না পেরে স্থানীয়রা শহরের ছোট ছোট মসজিদে ভিড় করছেন।

এদিকে এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মূলত একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল আসলে পবিত্র এই স্থানটিকে মুসল্লিশূন্য করতে চায়। এখানে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ নির্বিঘ্ন করতে ও আল-আকসাকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এই পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর আকিদা ও বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত।

আরএইচ/