
|
যুদ্ধের মধ্যেও প্রতিদিন ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে ইরান
প্রকাশ:
২৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করলেও সেই সংকটকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং নিজেদের রপ্তানি প্রক্রিয়া সচল রাখতে পারার কারণে দেশটি এই বিশাল অংকের অর্থ ঘরে তুলছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরান এখন গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম মূল্যছাড়ে তেল বিক্রি করতে পারছে। যেখানে যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ইরানি তেলের দামের ব্যবধান ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলারের বেশি, তা এখন কমে মাত্র ২.১০ ডলারে নেমে এসেছে। এই বাড়তি আয়ের ফলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেও তেহরান তাদের রাষ্ট্রীয় অবস্থান শক্তিশালী রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মার্চ মাসে ইরানের দৈনিক তেল রপ্তানি প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়ের প্রায় কাছাকাছি। মূলত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র কেবল সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় দেশটির তেল অবকাঠামো এখন পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কপার্নিকাস ব্রাউজার’-এর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খার্গ দ্বীপ টার্মিনালে নিয়মিত বড় বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে এবং সেখান থেকে তেল নিয়ে জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর কার্যত অবরোধ ও সংঘাতের প্রভাব থাকায় তাদের রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে তেলের জোগান ঠিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রও কিছু ক্ষেত্রে ইরানি তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন যেন পরোক্ষভাবে ইরানকে তেল বিক্রিতে উৎসাহ দিচ্ছে, যা তেহরানের অর্থনৈতিক প্রবাহকে সচল রাখছে। তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের দৈনিক আয় যেখানে ১১৫ মিলিয়ন ডলার ছিল, মার্চ মাসে তা বেড়ে ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি বাবদও বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে ইরান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বড় ট্যাংকার পার করে দেওয়ার বিনিময়ে দেশটি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি আদায় করছে বলে জানা গেছে। এই সংগৃহীত অর্থ ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে ব্যয় করছে। বিপরীতে যুদ্ধের প্রভাবে কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। যদিও গত সপ্তাহে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল, তার জবাবে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিলেও পরে সুর নরম করে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে তেহরান সেই আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির শর্তে রাজি নয়। ফলে সামরিক সংঘাত চললেও তেল বিক্রির এই বিশাল মুনাফা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি আরএইচ/ |