
|
সড়কে মা-বাবা, ভাই-বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মাদরাসা ছাত্র আবরার
প্রকাশ:
২৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও ভাই-বোনকে হারানোর খবরটি শুরুতে জানতো না ১২ বছরের মাদরাসা ছাত্র আবরার। সে জানতো- আহত হয়ে সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবরার নিজেও তখন ছিল হাসপাতালের বেডে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে যখন স্বজনরা ময়নামতি হাইওয়ে থানা থেকে পরিবারের সদস্যদের মরদেহ আনতে যায় তখন সে জানতে পারে যে, সড়ক দুর্ঘটনায় কেবল নিজেই বেঁচে গেছে আর পরিবারের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে আবরার। তার চোখে-মুখে শুধুই হতাশা। সে যেন কাঁদতেও ভুলে গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার ধুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে প্রাণ হারান রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়ার প্রধান মুফতি ও শাইখুল হাদিস মুফতি আব্দুল মুমিনসহ তার পরিবারের চার সদস্য। সঙ্গে গাড়ির ড্রাইভারও। নিহতরা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদের বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনে-ভাগনি। নিহতের স্বজনরা বলেন, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানা বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রাইভেটকারে বাবা-মা-ভাই-বোনের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল আবরার। পথে প্রাইভেটকারে বাসের ধাক্কায় সবাইকে হারালেও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে আবরার। তার আরেকটি ভাই হুজাইফা (২৫) নানা বাড়িতে থাকায় তিনিও বেঁচে যান। ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদেরকে বহনকারী প্রাইভেট কারটি। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়ার একটি হোটেলে খাবারের বিরতি শেষে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ঢাকামুখী পথে প্রাইভেট কারটি সড়কে ওঠার সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে পাঁচজন নিহত হন। তারা হলেন- আবরারের বাবা মুফতি আব্দুল মোমিন (৫২), মা দিল আফরোজ আক্তার (৪৫), বোন লাবিবা (২১) এবং ছয় বছর বয়সী ভাই আরশাদ। তাদের বড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে। এ সময় আরও প্রাণ হারান চালক জামাল হোসেন (৫০)। তিনি বরিশাল জেলার বাসিন্দা। এমএম/ |