
|
যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করতে হবে: খেলাফত মজলিস
প্রকাশ:
২৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। মুক্তিযোদ্ধারা এই তিন মৌলিক চেতনাকে সামনে রেখে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর দেশ স্বাধীন হলো। গত ৫৫ বছরে দেশে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণকে আজও লড়াই করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে জনগণ বাকশাল, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অধীনে নিষ্পেষিত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে পল্টনস্থ কার্যালয় হলরুমে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খেলাফত মজলিস মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ ৪৭ সালে মানচিত্র, ৭১ সালে স্বাধীনতা ও ২৪ সালে সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে এই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করতে হবে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দেশপ্রেমিক জনগণ। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা, জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের পথে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভোটের কালি মোছার আগেই নবগঠিত বিএনপি সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিকতা, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নেতৃত্বের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্য এখনো অকাশছোঁয়া। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ জা¦লানী সংকট মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। স্বাস্থ্য, পরিবহন সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা খাতে দায়বদ্ধতা ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার কারণে নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও জীবন আজ বারবার হুমকীর সম্মুখীন। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিসত্ত্বা হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী করতে হবে। ১৮ বছর ঊর্ধ্ব সক্ষম সকল নারী-পুরুষের ৬ মাসের সামরিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করতে হবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে ও শাখা প্রশিক্ষণ সম্পাদক সেলিম হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগরী সহ-সভাপতি মল্লিক মোহাম্মদ কেতাব আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী আরিফুর রহমান, মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বায়তুলমাল সম্পাদক আবদুল হান্নান সরকার, হাফেজ শফিকুল ইসলাম, দেওয়ান আফসার মাহমুদ শোয়েব, মাওলানা ফরিদ আহমদ হেলালী প্রমুখ। এমএম/ |