
|
রমজানের পর মাদরাসা খুলতে এতো তাড়াহুড়ো কেন?
প্রকাশ:
২৬ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| বিশেষ প্রতিনিধি || পুরো মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে ধীরেসুস্থে কওমি মাদরাসাগুলো খোলার রেওয়াজ চলে আসছে বহু বছর ধরে। একটা সময় সাধারণত ১০ শাওয়ালের আগে মাদরাসার কার্যক্রম শুরু হতো না। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে রমজানের পর কার আগে কে মাদরাসা খুলতে পারে এটা নিয়ে যেন অঘোষিত এক প্রতিযোগিতা চলছে। এমনকি কোনো কোনো মাদরাসা ৫/৬ শাওয়াল খুলে দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে। রমজানের পর দ্রুত মাদরাসা খোলার অসুস্থ এই প্রতিযোগিতা কেন? এর বড় কারণ হলো, কার আগে কে ভালো ছাত্রদের ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে সেই চেষ্টা। সবাই চায় ভালো ছাত্রদের ভর্তি করে মাদরাসার সুনাম-সুখ্যাতি বাড়াতে। এজন্য বড় বড় মাদরাসাগুলোও আগে আগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে দেয়। তাদের টার্গেট থাকে মুমতাজ বা স্টার মার্ক পাওয়া ছাত্রদের ভর্তি করা। মাদরাসায় ভালো ছাত্র ভর্তির চেষ্টা খারাপ কিছু নয়, কিন্তু এটার অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিঃসন্দেহে খারাপ। দিন দিন কিছুসংখ্যক মাদরাসা আগেভাগে ভালো ছাত্রগুলো ভর্তি করে নেয়, এরপর গড়পড়তা যেসব ছাত্র থাকে সেগুলো ভর্তি করে বাকি মাদরাসা। আলোচনার বাইরে থাকা মাদরাসগুলো এক্ষেত্রে ছাত্র সংকটে পড়ে। মাদরাসা দ্রুত খোলার আরেকটি খারাপ দিক হলো, ওই মাদরাসার শিক্ষক-স্টাফরা রীতিমতো এতে বিরক্ত হন। কেননা সাধারণত কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা রমজানের ঈদই বাড়িতে কাটান। চামড়া কালেকশেনের জন্য কোরবানির ঈদ মাদরাসাতেই কাটাতে হয়। ফলে রমজানের ঈদের পর সবার কিছু বেড়ানোর শিডিউল থাকে। কিন্তু হুটহাট মাদরাসা খুলে ফেলার কারণে তাদের সেই শিডিউল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে তাদের ছোট হতে হয়। এতে দিন দিন মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করছেন। কিন্তু এতে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে বলে মনে হচ্ছে না। প্রতি বছরই এটা নিয়ে আলোচনা হলেও একই আচরণ প্রতি বছরই করেন কর্তৃপক্ষ। বার্ষিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী ছুটির কারণে কওমি মাদরাসাগুলো রমজানকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকে। এতো দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকা একটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য কতটা উপযোগী সেটা নিয়ে ভাবনার মতো যথেষ্ট সুযোগ আছে। সেটা ভেবে হয়ত অনেকে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করেন। ইতিবাচক এমন চিন্তা প্রশংসনীয়। কিন্তু শিক্ষক-স্টাফ যারা মাদরাসার প্রাণ, তাদের সুযোগ-সুবিধার দিকটিও মাথায় রাখতে হবে। দুই মাসের সঙ্গে দশ দিন যুক্ত হলে এমন কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না। রমজানের পর মাদরাসাগুলো খোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায় রাজধানী ঢাকা এবং মফস্বল শহরগুলোতে। যেহেতু পাশাপাশি আরও বেশ কিছু মাদরাসা আছে এজন্য কার আগে কে ছাত্র ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে সেটা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা এতোটাই অসুস্থতায় রূপ নিচ্ছে যে, ঈদুল ফিতরের চার/পাঁচ দিন পরই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফেলে। এতে ছাত্ররা যারা ভর্তি হন তাদেরও কম পেরেশানি ভোগ করতে হয় না। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে স্বস্তির সঙ্গে দুই চার দিনও বাড়িতে অবস্থান করতে পারে না। এতে ওই পরিবারে কওমি মাদরাসা সম্পর্কে খারাপ বার্তা যায়। এমএম/ |