
|
জামায়াতের প্রতিষ্ঠা ও মওদুদী মরহুমের প্রাথমিক সঙ্গীবৃন্দ!
প্রকাশ:
২৬ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী || ইংরেজদের বিতাড়িত হবার পূর্ব মুহূর্তে মুসলমানগণ অনুভব করেন যে, ইংরেজ বিদায় হবার পর এখানে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা দরকার। যাতে করে ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত জুলুম নিপীড়ন এবং তাদের প্রসারকৃত মতবাদের বিপরীতে ইসলামের ইনসাফ ও নিরাপত্তার শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে জাতির কাঙ্ক্ষিত ইনাসফভিত্তিক সাম্যের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। ইকামতে দ্বীন তথা দ্বীন প্রতিষ্ঠা, ইহয়ায়ে দ্বীন তথা দ্বীন জিন্দাকরণ, তাজদীদে দ্বীন, তথা দ্বীনের আধুনিকায়ন ও সৎলোকের শাসনের চমৎকার স্লোগানে যাত্রা শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। খুবই অল্প সময়ে মুসলমানদের এক দল উক্ত আন্দোলনে সাড়া দিয়ে শরীক হয়ে যায়। কয়েকজন বড় আকাবির উলামাও এতে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত তা শক্তিশালী হতে থাকে। মাওলানা মানাজির আহসান গিলানী রহ., সাইয়্যেদ সুলাইমান নদবী রহ., মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী রহ.-এর মতো আকাবিরীনও মওদুদী সাহেবের লিখিত বিভিন্ন প্রবন্ধের ভূয়সী প্রশংসা করেন। যার ফলে যুবকরা দলে দলে এই দলে যোগ দিতে শুরু করে। কিন্তু আহলে দিল ও আহলে ইলম উলামায়ে কেরাম শুরুতেই তাদের খোদাপ্রদত্ব ঐশী প্রজ্ঞা দিয়ে মওদুদী সাহেবের লেখায় ভুল, চিন্তাগত ভ্রান্তি, হক থেকে বিচ্যুতি অনুভব করতে থাকেন। সর্বপ্রথম মাওলানা মানাজির আহসান গিলানী রহ. সাপ্তাহিক ‘সিদক্বে জাদীদ’ পত্রিকায় ‘খারিজিয়্যাতে জাদীদাহ’ তথা নব্য খারিজিয়্যাত নামে মওদুদী সাহেবের গোমরাহি নিয়ে লেখা প্রকাশ করেন। তারপর মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী রহ.ও মওদুদী সাহেবের ভ্রান্তিতা নিয়ে আওয়াজ তোলেন। মওদুদী সাহেবের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রমে উৎপ্রোতভাবে চারজন আকাবির শুরু থেকে সংযুক্ত হয়েছিলেন। তাদের মাঝে মাওলানা মঞ্জুর নোমানী রহ., মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহ. ছয় মাস পরেই মওদুদী জামায়াত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেন। তৃতীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহী রহ. লম্বা সময় পর্যন্ত ছিলেন। কিন্তু যখন মওদুদী সাহেবের বক্তব্য ও আকিদা গোমরাহির চূড়ান্তে অনুভব করেন তখন তিনিও পৃথক হয়ে যান। চতুর্থ সঙ্গী মাওলানা রফীক মাসঈদ আলম নদবী জামায়াতে যোগ দেবার অল্প কিছুদিন পরেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সর্বদা হক পুরস্ত থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন। লেখক: পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা এমএম/ |