
|
নতুন বছরে ভর্তির দুর্ভোগ, একটি মর্মস্পর্শী চিত্র
প্রকাশ:
২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৫৭ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| আব্দুল্লাহ ইউসুফ || নতুন শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসাগুলোর আঙিনায় এক নতুন আমেজ দেখা দেয়। পুরনো ছাত্ররা ফিরে আসে নতুন পাঠে, নতুন অধ্যায়ে। তবে এই সময়ে এক দল ছাত্র পা রাখে নতুন অজানা যাত্রায়—মাদরাসা পরিবর্তন করে তারা আসে একেবারেই নতুন এক পরিবেশে, যেখানে তাদের কেউ চেনে না, তারাও কাউকে জানে না। শুরু হয় ভর্তি কার্যক্রম। বিশেষ করে মফস্বল বা গ্রামের মেধাবী ছাত্ররা যখন বড় কোনো শহরের, বিশেষত ঢাকার, মাদরাসায় ভর্তি হতে আসে, তখন তারা যে মানসিক যন্ত্রণা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যায়, তার কোনো পরিমাপ নেই। কোথায় কোন রুমে ফর্ম জমা হবে? কার সঙ্গে কথা বললে কাজ এগোবে? ভর্তি ফি কত? পরীক্ষা কবে? এসব প্রশ্নে তারা বিভ্রান্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পকেটে সামান্য কিছু টাকা, কাঁধে একটা ব্যাগ আর চোখে নির্বল আকাশসম স্বপ্ন নিয়ে যখন একা একা তারা মাদরাসার ফটকে এসে দাঁড়ায়, তখন চারপাশের অপরিচিত মুখ আর অচেনা নিয়মকানুন তাদের আত্মবিশ্বাসটুকুকেও দুলিয়ে দেয়। কেউ কেউ দরজা খুঁজে পায় না, কেউ কেউ প্রশ্ন করেও উত্তর পায় না। কখনো কখনো ওস্তাদদের অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিও হয়ে দাঁড়ায় এক নির্মম অথচ মানসিক নির্যাতন। কোথাও খোঁজ নিতে গেলেও অধিকাংশ সময় ক্লান্ত গলায় উত্তর আসে, ‘ভর্তি প্রসেস তো আগেই শেষ হয়ে গেছে।’ অথচ সেই ছাত্রটি হয়তো গত রাতেই পেছনে রেখে এসেছে তার নিজের ছোট্ট গ্রাম, মা-বাবার চোখের পানি আর ছোট ভাইয়ের হাত নাড়ানো। এই দুর্ভোগগুলোর জন্য অনেক সময় ছাত্রটির পড়াশোনার মনোভাবই ভেঙে পড়ে। কখনো কখনো ভর্তি না হতে পেরে ফিরেও যেতে হয়। এভাবে প্রতিভাবান অনেক মুখ হারিয়ে যায় স্রোতের নিচে। প্রতিটি ছাত্রই যখন জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে, তখন তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় একজন অভিভাবকসুলভ সহায়কের। আমাদের প্রিয় ওস্তাদদের প্রতি একান্ত অনুরোধ আপনারা যদি একটু মমতা, একটু সহানুভূতির হাত বাড়ান, তবে এই ছাত্ররা বুক ভরে দুআ করবে। তারা আপনাদের শুধু ছাত্র নয়, একদম পরিবারের মতো করে দেখতে চায়। অজানা শহরে একটুকরো আপনজনের মতো আপনাদের আচরণই হয়ে উঠতে পারে তাদের মনোবলের প্রধান ভরসা। ভর্তির দিনগুলোতে আমরা নিঃস্ব। প্রিয় রহমদিল ওস্তাদ, আপনারা একটু মমতা দিন আমাদের এইটুকুই চাওয়া। লেখক: শিক্ষক, জামিয়াতুল আসআদ আল ইসলামিয়া রামপুরা, ঢাকা এমএম/ |