
|
হাদি হত্যা নিয়ে মুখ খুললেন প্রধান আসামি ফয়সাল
প্রকাশ:
২২ মার্চ, ২০২৬, ০৬:২১ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন ‘শুটার’ ফয়সাল করিম মাসুদ বলেছেন, ‘আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’ রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল এই কথা বলেন। ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে এদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় জেল হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দেন। এই সময়কালে তাকে জেলে গিয়ে জেরা করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। আবার তাদের ২ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ অ্যাক্ট ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার অর্থ হলো—সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা, কাউকে সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করা। মূলত, এই ধরনের মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হয়ে থাকে। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কোথাও দেখাতে পারবেন না আমি হাদিকে সরাসরি গুলি করেছি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’ ফয়সাল আরও বলেন, ‘আমি ওই সময় বাংলাদেশে ছিলাম। অবশ্যই আমাকে সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে। কিন্তু আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’ তবে বাংলাদেশ থেকে কী কারণে ফয়সাল ভারতে চলে এসেছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেননি তিনি। এছাড়া গত জানুয়ারিতে তার নিজের করা ভিডিওর বিষয়ে সাংবাদিকরা ফয়সালের কাছে জানতে চান- ‘তুমি (ফয়সাল) দুবাইয়ের ভিডিও বানিয়ে বলেছিলে যে—তুমি দুবাইয়ে আছো’। এমন প্রশ্ন করা হলেও ফয়সাল কোনো কথা বলেননি। ১৪ দিনের রিমান্ড শেষ রোববার (১৭ মার্চ) কলকাতার বিধাননগর আদালতে তোলা হয়েছিল ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে। তার আগে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে, শনিবার (২১ মার্চ) ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন আদালত। ফিলিপ প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে পালাতে সহায়তা করেন বলে বাংলাদেশের পুলিশের দাবি। জেল হেফাজতে থাকাকালে তাকে কারাগারে গিয়ে জেরা করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তাকে আবার ৩ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে। এমএম/ |