প্রসঙ্গ: হাফেজ সাহেবদের হাদিয়া
প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতি জিয়াউর রহমান ||

আজ পর্যন্ত হাফেজ সাহেবদের হাদিয়া বিষয়ে ফাতওয়া আকারে কিছুই লেখা হয়নি। আমি মনে করি কিছু কিছু মাসয়ালা আছে যেগুলোর স্বপ্রণোদিত ফাতওয়া না দেওয়াই মাসলাহাত। যদিও উসুলের আলোকে ফাতওয়া তার জায়গায় বহাল রয়েছে৷

যা লিখেছি বা ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করলে বলেছি তা হচ্ছে- হাফেজ সাহেবকে হাত ভরে হাদিয়া দেবেন। যাতে তিনি খুশি হয়ে যান। এটাও কুরআনের প্রতি মুহাব্বত প্রকাশের এক মাধ্যম।

কোনো মুসলিম কুরআনের বিনিময় দেবে, এমনটা কল্পনা করা যায় না। তাই হাদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করে থাকি সবসময়। তবে কমিটি কর্তৃক চাপাচাপি করে হাদিয়ার নামে মাথাপিছু বা ঘরপ্রতি হার নির্ধারণ করে চাঁদা উত্তোলন করা নিষেধ।

সবচেয়ে উত্তম ও সুন্দর পদ্ধতি হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে হাফেজ সাহেবদের হাদিয়া প্রদান করা। তবে যদি মুসল্লিদের স্বেচ্ছাপ্রদানকৃত হাদিয়া কমিটি নিজ ব্যবস্থাপনায় তোলেন, তাহলে সেটাও আমি বৈধ মনে করি। তবে কোনো রকমের কোনো চাপ সৃষ্টি করা হলে নাজায়েজ হয়ে যাবে। তখন হাদিয়ার পরিবর্তে বিষয়টি বিনিময়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যাবে।

আসলে আমাদের দেশে ব্যক্তিগত হাদিয়া দেওয়ার রেওয়াজ নেই বললেই চলে। অনেক দ্বীনদার সমাজ আছেন, যারা হুফফাজে কেরাম কিংবা উলামায়ে দ্বীনকে হাদিয়া দেওয়াকে একরকম 'গোনাহ'ই মনে করেন৷ মুখে না বললেও কার্যক্ষেত্রে এটাই প্রকাশ পায়। এই মানসিকতা ছাড়তে হবে।

মানুষকে হাদিয়ার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। কুরআনের ধারক-বাহকদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সৃষ্টির লক্ষে কাজ করতে হবে৷ হাদিয়া আর বিনিময়ের পার্থক্যও বোঝাতে হবে।

লেখক: বিশিষ্ট আলেম ও ফকিহ

আইএইচ/