
|
এত ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা লইয়া আমরা কী করিব?
প্রকাশ:
১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ || ক্যাডেট কলেজ বা ক্যাডেট স্কুল হলো- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত বিশেষ আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি সামরিক কায়দায় সুশৃঙ্খল শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১২টি ক্যাডেট কলেজ রয়েছে। তন্মধ্যে ছেলেদের ৯টি, মেয়েদের ৩টি। ‘ক্যাডেট’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ নামে যেন জাদু মিশে আছে। তাই তো অনেক স্কুলের আগে এই শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয়। অনেকে আবার ‘প্রি-ক্যাডেট’ লিখেন। কিন্তু বাংলাদেশে ‘ক্যাডেট মাদরাসা’ কবে থেকে শুরু হলো, এর কোনো ধারণা আমার নেই। তবে অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে, স্কুল বলেন বা মাদরাসা- ওই প্রতিষ্ঠানের নামের আগে-পরে ক্যাডেট লেখা থাকলে শিক্ষার্থীর অভাব হয় না। শিক্ষার্থী পাওয়ার এই অভিনব ধারণা থেকেই ‘ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার’ ছড়াছড়ি। প্রশ্ন হলো, সাধারণ মাদরাসা অর্থাৎ চিরায়ত কওমি মাদরাসা থেকে ক্যাডেট মাদরাসা কতটুকু আলাদা? তার কোনো উত্তর নেই। তারপরও সারাদেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা। রাস্তায় রাস্তায়, পথে-ঘাটে যেতে এসব সাইনবোর্ড চোখে পড়ে, সেগুলো কোনো আবাসিক কোম্পানি কিংবা বিজ্ঞাপনী সংস্থার নয়। সবই ক্যাডেট মাদরাসার। মাদরাসা নাম থাকায় এসব ‘প্রতিষ্ঠানের’ পরিচালক বা পরিচালনা পরিষদে কারা আছেন, সে ব্যাপারে প্রশাসন কিছু ঘাটতে চান না। ধর্মীয় শিক্ষার কারণে সরকারও খুব একটা ঘাঁটাঘাঁটি করতে চায় না তাদের। আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিধায় অভিভাবকরা সন্তানদের ভর্তি করে মাসে মাসে খরচের টাকা পাঠিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ মনে করেন। এ সুযোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জমজমাট ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন অনেকেই। ‘ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’গুলোর সফলতার হারও খুব কম। উল্টো এসব মাদরাসায় পড়ালেখা করে শিক্ষার্থী দিনশেষে (পড়ুন এক সময়) না মাদরাসার লাইনে পড়তে যায় না স্কুলের লাইনে। এক সময়ে যে পড়ালেখা থেকে ছিটকে পড়ে। ক্যাডেট মাদরাসাগুলোর পরিবেশ, পাঠদান ব্যবস্থা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম একেবারেই সাদামাটা। এগুলোর নেই কোনো নীতিমালা, নেই নিয়মনীতি, নেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন। দু-চারটা রুম ভাড়া নিয়ে ক্যাডেট মাদরাসা নাম দিয়ে বাণিজ্য চলছে। ক্যাডেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে ধরনের নিয়মকানুন অনুসরণ করে, এখানে তার বালাই নেই। ভিন্ন ভিন্ন পোশাক আর ব্যাগভর্তি বই চাপিয়ে দিয়ে শিশুদের ওপর এক ধরনের মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব মাদরাসার জনপ্রিয় স্রোগান- ‘শিশুদের আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।’ এ কথার সঙ্গেও বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অনেকে বলতে পারেন, হঠাৎ করে ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা নিয়ে কথা বলছি কেন? কারণ এই অনিয়ম আর নেওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের স্বপ্ন চুরমার করার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এসব মাদরাসা। ধর্মপ্রাণ মানুষ তার সন্তানদের অনেক আশা নিয়ে ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় ভর্তি করে, দিনশেষে তার সন্তান হয় ভবঘুরে। প্রচুর মানুষের কান্না দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে সীমিত পরিসরে ভদ্রভাবে মনের দুঃখ বললাম। পরামর্শ: এসব মানহীন প্রতিষ্ঠানের লাগাম টেনে ধরতে কওমি মাদরাসা বোর্ডগুলোর স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। আর এসব মাদরাসা কওমি শিক্ষা ধারার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কতটু ফলপ্রসূ- সেটাও বিবেচনার দাবি রাখে। লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক |