‘ইসলামি হুকুমত ব্যতীত দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:১০ সকাল
নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন, ইসলামি হুকুমত তথা কুরআন-সুন্নাহর শাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতীত দেশ থেকে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করাসহ প্রকৃত ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব নয়। যমিন আল্লাহর,আমরাও আল্লাহর, সুতরাং ব্যক্তি, পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে মানব দানব ও সৃষ্টি কুলের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত বিধান প্রতিষ্ঠাই শান্তি ও মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি। মানবসৃষ্ট কোন আইনের দ্বারা দেশে প্রকৃত ইনসাফ বা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা কস্মিনকালেও  সম্ভব নয়। 

তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন নাযিলের মাস রমজানে আমাদের শপথ হওয়া উচিত আমরা যে কোন মূল্যে আল্লাহর জমিনে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠার মেহনতকে বেগবান করবোই। 

শুক্রবার  (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টনস্থ ফারস হোটেলে 'ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার শপথ দিবস' উপলক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন। 

ইফতার মাহফিলে খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী বলেন, সারা জীবন নিভৃতে জ্ঞানসাধনা ও আত্মশুদ্ধির কাজে আত্মনিয়োগকারী হাফেজ্জী হুজুর রহ. শেষ জীবনে এসে জাতিকে তওবার আহবান জানিয়ে রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে  ক্ষমতার মসনদে পাঠিয়ে  তাদের কৃত অন্যায়ের দায় ভোটদাতার ভাগেও পড়ে। তাই হাফেজ্জী হুজুরের আহবান ছিল ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দিয়ে সম্মিলিতভাবে সেই পাপ থেকে তওবা করা। তিনি সবাইকে হাফেজ্জী হুজুরের পদাংক অনুসরণ করে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষে আজীবন কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।

'ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার শপথ দিবস'-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ১৯৮৭ সালের ৯ রমজান জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ এর জানাজাকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ অঙ্গীকার করেছিলেন যে ইনশাআল্লাহ আমরা এদেশে  ইসলামী হুকুমত কায়েম করে হাফেজ্জী হুজুরের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করব। সেদিন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের আলেম-ওলামাগণ প্রতিবছর ৯ রমজানকে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার শপথ দিবস হিসেবে  দিনটিকে স্মরণ করে আসছে। জানাজায় তৎকালীন জাতীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই বলেছিলেন হাফেজ্জী হুজুর ছিলেন মুসলমানদের  হৃদয়ের সম্রাট।

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. ঈসা শাহেদী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দীন, বিশিষ্ট লেখক জনাব আশেক ইলাহী, মাওলানা এনামুল হক মূসা,  হাজী জালালুদ্দিন বকুল প্রমূখ।  

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খেলাফত আন্দোলনের  মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল মান্নান, মাওলানা সানাউল্লাহ হাফেজ্জী,  সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, এডভোকেট মুহাম্মদ লিটন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মোফাচ্ছির  হোসাইন, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী প্রমূখ।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল খেলাফত আন্দোলনের ইফতার মাহফিল।

 এমএম/