
|
নামাজরত মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ঢাল হয়ে দাঁড়াল হিন্দু সহপাঠীরা
প্রকাশ:
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৪:৩৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক কঠোরতা ও বিভেদের প্রাচীর যখন প্রার্থনার পথ আটকে দিয়েছিল, তখন ভিন্ন ধর্মের ছাত্ররা মুসলিম সহপাঠীদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শিক্ষার প্রাঙ্গণে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব এখনো সবকিছুর উপরে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক 'লাল বারাদারি' এলাকায় এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখা যায়। পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মসজিদের গেট বন্ধ করে দেয়, যাতে শিক্ষার্থীরা নামাজ পড়তে না পারে। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা মসজিদের বাইরে খোলা স্থানে নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সহপাঠীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিম ছাত্রদের চারপাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করে পাহারায় দাঁড়ান। দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা রোদে দাঁড়িয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, যাতে প্রশাসন বা বাইরের কেউ ইবাদতে বাধা না দিতে পারে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া লাল বারাদারি মসজিদটি তালাবদ্ধ করে দেয়। মুসলিম ছাত্ররা যখন খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করছেন, তখন সমাজবাদী ছাত্র সভা (এসসিএস), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ)-এর ছাত্ররা হাতে হাত ধরে মানববন্ধন তৈরি করেন। এনএসইউআই-এর জাতীয় সমন্বয়ক বিশাল সিং বলেন, “আমরা গঙ্গা-জমুনা তহজিবে বিশ্বাসী, তাই মুসলিম ভাইদের পাশে দাঁড়িয়েছি।” নামাজ শেষে মুসলিম ছাত্ররা রোজা ভাঙেন এবং এই মানববন্ধনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা সবাইকে মুগ্ধ করে। লাল বারাদারি একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো মুঘল আমলের স্থাপত্য, যা এএসআই-সুরক্ষিত। এর আগে এখানে ব্যাংক ও ক্যান্টিনও ছিল। এই মানববন্ধন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশে সম্প্রীতির শক্তিশালী বার্তা হিসেবে উদ্ভাসিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, যেখানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুবসমাজ সম্প্রীতির নতুন পথ দেখাচ্ছে। হিন্দু শিক্ষার্থীদের এই মানবঢাল কেবল মানবিক নয়, বরং ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি জ্বলন্ত প্রতিফলন। এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা প্রমাণ করে যে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মান এখনও জীবন্ত রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে থাকার শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। এনএইচ/ |