৯০ বছর ধরে ইফতার আয়োজনের ঐতিহ্য!
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:৩৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন প্রাঙ্গণে রমজান মাসজুড়ে চলে ইফতারের আয়োজন। এখানে প্রায় ছয় হাজার মানুষ ইফতার করেন। এই ঐতিহ্য ৯০ বছর ধরে চলে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৫ বছর ধরে ইফতার প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি আমানত আলী বলেন, প্রতিদিন ১৯০ কেজি ছোলা রান্না করা হয়। ১৪৪ কেজি সুজি, ১৫০ কেজি চিনি ও ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে সাত ডেক ফিরনি তৈরি করা হয়।

‘ভোর থেকে কাজ শুরু করি, বিকেল ৩টার মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করতে হয়। এখান থেকে যে পারিশ্রমিক পাই, তাতেই আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে চলে’, বলেন তিনি।

সিঙ্গারা তৈরির কাজে নিয়োজিত মো. আসাদুজ্জামান জানান, তিনি ছাড়াও পাঁচ-ছয়জন এ কাজে যুক্ত আছেন। প্রতিদিন ১৮০ কেজি আলু ও ১৫৪ কেজি ময়দা দিয়ে সিঙ্গারা প্রস্তুত করা হয়। সীমিত পারিশ্রমিক পেলেও এখানে কাজ করে আত্মতৃপ্তি পান বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক প্লেট সাজানো ও খাবার বিতরণে অংশ নেন। খেজুর, কলা, চিড়া, ছোলা ও ফিরনি দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি ইফতার প্লেট।

দুই দশক ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, নলতা শরীফে পহেলা রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার আয়োজন করা হয়। আমি প্রায় ২০-২১ বছর ধরে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত। এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যের, বলেন তিনি।

অনেক বছর ধরে এখানে ইফতার করছেন আনসার আলী। তার ভাষ্য, এখানে এসে শান্তি লাগে। নামাজ-কালাম আর ইফতার মিলিয়ে এক সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে ইফতার করি।

মিশনের সহকারী সম্পাদক ডা. আবুল ফজল জানান, প্রতিদিনের এ আয়োজনে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দাতাদের অনুদানে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ৫০ জন বাবুর্চি ও ২৫০ স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করেন।

জানা যায়, সাধক খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ ১৯৩৫ সালে নলতায় এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে স্থানীয়রা নিজ নিজ বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে একসঙ্গে ইফতার করতেন। সময়ের ব্যবধানে সেই ছোট আয়োজন আজ হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

 

আইএইচ/