
|
চতুর্থ তারাবি, মুনাফিকদের প্রসঙ্গ
প্রকাশ:
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| ইমরান ওবাইদ || আজ ৪ঠা রমজান, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। গতকাল ৩য় রমজান দিবাগত রাতে পড়া হয়েছে চতুর্থ তারাবি। তেলাওয়াত করা হয়েছে পঞ্চম পারার শেষ অর্ধেক এবং ষষ্ঠ পারা—সুরা নিসার ৮৮ নম্বর আয়াত থেকে সুরা মায়েদার ৮২ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। এতে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তেলাওয়াতের শুরুতেই সুরা নিসার ৮৮ থেকে ৯১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত চার প্রকার মুনাফিকদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে: ১. প্রথম প্রকার: মক্কার এমন কিছু লোক, যারা মদিনায় এসে বাহ্যিকভাবে মুসলমান হয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাহাবায়ে কেরামের সহানুভূতি লাভ করা। কিছুদিন পর তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ব্যবসার অজুহাতে মক্কায় যাওয়ার অনুমতি চায় এবং চলে যায়। তাদের সম্পর্কে কিছু সাহাবির রায় ছিল যে তারা খাঁটি মুসলমান, কিন্তু বাকিরা তাদের মুনাফিক মনে করতেন। তবে মক্কায় যাওয়ার পর যখন তারা আর ফিরে এলো না, তখন তাদের নেফাকি প্রকাশ পেয়ে গেল। কারণ, সেই সময়ে মক্কা থেকে হিজরত করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত ছিল। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরত না করলে মুসলিম গণ্য করা হতো না। ২. দ্বিতীয় প্রকার: দ্বিতীয় আয়াতে এমন মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা মনে-প্রাণে কামনা করত যে খাঁটি মুমিন-মুসলিম, অর্থাৎ: সাহাবায়ে কেরামগণ যেন তাদের মতোই কাফের হয়ে যায়। তাদের চিন্তাভাবনা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের পথভ্রষ্ট করেছেন এবং মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা হয়। ৩. তৃতীয় প্রকার: তৃতীয় আয়াতে দুই ধরনের মুনাফিকদের কথা উল্লেখ রয়েছে: ৪. চতুর্থ প্রকার: চতুর্থ আয়াতে এমন মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে যারা মুখে প্রকাশ করত যে, তারা কোনোভাবেই মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা মূলত এই অভিনয় করত যাতে সাহাবায়ে কেরাম তাদের হত্যা না করেন। বিধান: উল্লেখিত মুনাফিকদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ প্রকারের মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ ছিল। কেবল তৃতীয় প্রকারের মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করার বিধান দেওয়া হয়েছিল।
আইএইচ/ |