
|
ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে?
প্রকাশ:
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:১৫ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
নাজমুল হাসান রমজান মাসে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে কিন্তু হাতে সময় খুব কম। অথবা ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় গোসল করলে সেহরির সময় শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এমন অবস্থায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—নাপাক অবস্থায় সেহরি খেলে কি রোজা হবে? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: হ্যাঁ, ফরজ গোসল না করে সেহরি খেলে রোজা হবে। তবে দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) ও উম্মত সালামা (রা.) বর্ণনা করেছেন: "রমজান মাসে সহবাসের ফলে ফরজ গোসল অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুবহে সাদিক হয়ে যেত (অর্থাৎ সেহরির সময় শেষ হতো)। এরপর তিনি গোসল করে রোজা পূর্ণ করতেন।" (সহিহ বুখারি: ১৮২৯, ১৯২৬) গোসল ফরজ হওয়ার কারণসমূহ ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী প্রধানত চারটি কারণে গোসল ফরজ হয়: জানাবাত: নারী-পুরুষের যৌন মিলন, স্বপ্নদোষ বা যেকোনোভাবে বীর্যপাত হলে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন— "আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।" (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬) হায়েজ: নারীদের মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর। নেফাস: সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর। মৃত ব্যক্তি: জীবিতদের ওপর মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ফরজ। সেহরি ও নামাজের গুরুত্ব সেহরি খাওয়া সুন্নাত এবং এতে বরকত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।" (সহিহ মুসলিম)। সময় কম থাকলে নাপাক অবস্থায় সেহরি খেয়ে নেওয়া জায়েজ, তবে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই গোসল করে পবিত্র হওয়া আবশ্যক। একটি সতর্কবার্তা গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত করা মারাত্মক গুনাহ। তীব্র লজ্জা বা গোসলের পরিবেশ নেই—এমন অজুহাত শরিয়তসম্মত নয়। হাদিসে এসেছে, যার নামাজ কাজা হয়ে গেল, তার যেন পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ) সময় কম থাকলে নাপাক অবস্থায় সেহরি খাওয়া যাবে, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সেহরি শেষ করে দ্রুত গোসল করে নিতে হবে যেন ফজরের নামাজ জামাতে বা সঠিক সময়ে আদায় করা যায়। |