
|
খতমে নবুওয়াত বিরোধীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
প্রকাশ:
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২০ রাত
নিউজ ডেস্ক |
কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে রাজধানীতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আয়োজকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমত রয়েছে। এখন তারা তা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করতে চান। শুক্রবার(২০ ফেব্রুয়ারি )জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর উত্তর গেটে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগৃহীত স্বাক্ষরসমূহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা রশীদ আহমদ,মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবাহানী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা আবু ইউসুফ ও মাওলানা আব্দুল গাফফার প্রমুখ। মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন,ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা অনুযায়ী, তাঁর পরে আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। এই বিশ্বাসকে ইসলামের পরিভাষায় 'খতমে নবুওয়াত' বলা হয়, যা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী দাবি করার মাধ্যমে ইসলামের এই মৌলিক স্তম্ভকে অস্বীকার করেছেন। ফলে বিশ্বের অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এবং মুসলিম দেশগুলো তাদের ইসলামের গণ্ডি বহির্ভূত মনে করে। মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,কাদিয়ানীরা নিজেদের 'মুসলিম' হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইসলামের পরিভাষা ও ইবাদত পালন করে। এতে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের অমুসলিম ঘোষণা করলে ইসলামের মৌলিক পরিচিতি সুরক্ষিত হবে। মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী বলেন,মুসলিম পরিচয়ে কাদিয়ানিরা হজ পালন বা মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে, যা ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে একটি প্রতারণা। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে এই ধোঁয়াশা কেটে যাবে। মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী বলেন, বিশ্বের অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে (যেমন: পাকিস্তান) তাদের অমুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারে, কিন্তু 'মুসলিম' পরিচয়ে ইসলাম বিকৃতির সুযোগ পায় না। মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, দীর্ঘকাল ধরে এই ইস্যুটি নিয়ে মুসলিম সমাজে অসন্তোষ বিরাজ করছে। একটি স্পষ্ট রাষ্ট্রীয় আইন বা ঘোষণার মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদী ধর্মীয় ও সামাজিক অস্থিরতার অবসান ঘটানো সম্ভব। এমএম/ |