হাসিমুখে কথা বলার ফজিলত-সওয়াব
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মানবজীবনের প্রতিটি কল্যাণকর কাজেই রয়েছে সওয়াব। ইসলামে হাসিমুখে কথা বলা কেবল সৌজন্য নয়; এটি ইবাদত ও সাদকার অন্তর্ভুক্ত। মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, আন্তরিকতা ও হাসিমুখে কথা বলা পারিবারিক শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এটি সুন্নতের অংশ হিসেবেও বিবেচিত।

একটি আন্তরিক হাসি মানুষের হৃদয় জয় করার সহজ মাধ্যম। সামান্য একচিলতে হাসিই দূর করতে পারে মনোমালিন্য, গড়ে তুলতে পারে বিশ্বাস ও বন্ধন।

হজরত আবু জার আল-গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘তোমার ভাইয়ের সামনে হাস্যোজ্জ্বল মুখে উপস্থিত হওয়াও তোমার জন্য সদকা।’
(জামি আত-তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৬)

অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, সৎকাজের আদেশ দেওয়া, অসৎকাজ থেকে বিরত রাখা, পথহারা ব্যক্তিকে পথ দেখানো এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া—এসবও সদকার অন্তর্ভুক্ত।

এ থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে মানুষের উপকারে আসে এমন প্রতিটি ইতিবাচক আচরণই সওয়াবের কাজ। হাসিমুখে কথা বলা মানুষের মনে আনন্দ জাগায় এবং সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

হাদিসে আরও এসেছে, ধনসম্পদ দিয়ে মানুষকে যতটা খুশি করা যায় না, তার চেয়ে বেশি খুশি করা যায় প্রফুল্ল মুখমণ্ডল ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে।
(বুলুগুল মারাম, হাদিস: ১৫৩৪)

রাসুল (সা.)–এর উত্তম দৃষ্টান্ত

হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন,
‘আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর কখনো রাসুল (সা.) আমাকে তাঁর কাছে যেতে বাধা দেননি। আর যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০৩৫)

এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রিয়নবি (সা.) মানুষের সঙ্গে সদাচরণ ও হাসিমুখে আচরণ করতেন। তাঁর জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।

হাসিমুখের ইতিবাচক প্রভাব

হাসিমুখ কেবল একটি অভ্যাস নয়; এটি দাওয়াত, দয়া ও মানবিকতার ভাষা। পরিবারে ভালোবাসা বৃদ্ধি, সমাজে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে এর ভূমিকা অপরিসীম। একটি মুচকি হাসি দুঃখী হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দিতে পারে।

এনএইচ/