
|
পূর্বপুরুষের মসনদ পুনরুদ্ধার, সংসদে কওমি আলেম হানজালা
প্রকাশ:
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
||মুফতি শেখ মু. নাঈম বিন আ. বারী|| হা. মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা যিনি পীরজাদা হানজালা নামে পরিচিত, একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাজনীতিবিদ। তিনি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা ১৯৯৭ সালের ২৪ মার্চ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মুবিন উদ্দিন আহমেদ নওশিন মিয়া এবং দাদার নাম আবুল হাফেজ মোহসেন উদ্দিন আহমদ। তিনি পারিবারিক জীবনে দু'টি বিবাহ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি স্হানীয় একটি কাওমি মাদরাসা থেকে হিফজুল কুরআন সমাপ্ত করেছেন। ঢাকায় মাদানি নেসাবে লেখাপড়া করার পর আফ্রিকার বিখ্যাত কওমি মাদরাসা, মাদরাসাতুল আরাবিয়া আল-ইসলামিয়া দারুল উলুম আজাদবিল হতে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ইসলামিক স্কলার। তিনি ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় করেন ১৫৯২২৫ ও ইসলামী লেকচার থেকে আয় করেন ১৪৩৩০৩২। তিনি ৫ আগষ্ট পরবর্তী বাংলাদেশে তার এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান, নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন ও অন্যের জমি আত্মসাৎ কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তার এই কার্যক্রম দেখে তার এলাকায় দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তার জনপ্রিয়তা দেখে মাদারীপুর-১ আসনের শিবচরে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী করা হয়। তিনি রিকশা মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১০২টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পান ৬৩ হাজার ৫১১টি এবং পোস্টাল ব্যালটে ভোট পান ১ হাজার ৩৯৮টি। সর্বমোট ভোট পান ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নাদিরা আক্তার পান ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে ভোট পান ২৩৩টি। তার সর্বমোট ভোট ৬৪ হাজার ৫২৪। তাদের মধ্যকার ভোটের ব্যবধান ৩৮৫। শিবচরের ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। ৩৫ বছর পর সেই ‘দুর্গ’ গুঁড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়লেন পীরজাদা হানজালা। স্থানীয়রা বলছেন, এর পেছনে তার পূর্বপুরুষদের দীর্ঘ দিনের সামাজিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতারও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে ছিল। তাঁর পূর্বপুরুষ হাজী শরীয়তুল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০) ধর্মীয় সংস্কারক, নীলকর ও সামন্তবাদ বিরোধী নেতা এবং ভারতবর্ষে সংঘটিত ফরায়েজি আন্দোলনের মুখপাত্র। তিনি শুধু ধর্মীয় সংস্কারক ছিলেন না, বরং কৃষক, তাঁতি এং অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য সংস্কার আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন। তিনি চেয়ে ছিলেন মুসলমানদের মাঝে দিনে দিনে যে ধর্মীয় কুসংস্কার প্রবেশ করেছে তা উচ্ছেদ করে তাদের ইসলামের মূল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। অনেকের মতে, তিনি ওয়াহাবি আন্দোলন (যা বর্তমানে দেওবন্দি চিন্তাধারা) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ইসলামের প্রধান করণীয় কাজকে বলে 'ফরজ'। এচিন্তা থেকেই তার সংস্কার আন্দোলনের নাম হয় 'ফরায়েজি আন্দোলন'। তাঁর পূর্বপুরুষ হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব দেন তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া (১৮১৯ - ২৫ সেপ্টেম্বর ১৮৬২)। তিনি ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনকারী। বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের নিপীড়িত জনগণের আত্মশক্তির বিকাশ এবং ঔপনিবেশিক শক্তি ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামের ইতিহাসে দুদু মিয়া ছিলেন অন্যতম। তাঁর পঞ্চম পুরুষ জমিয়তে ইসলাম হাজারভী গ্রুপের পূর্ব পাকিস্তান সভাপতি পীর মোহসেন উদ্দিন দুদু মিয়া (র.) ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ৩৫ ফরিদপুর-০২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত মাদারীপুর-০১ সংসদ সদস্য পীরজাদা হানজালা হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর সপ্তম পুরুষ। মাত্র ২৮ বছর বয়সে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এনএইচ/ |