ইসরাইলকে ৮৫ রাষ্ট্রের নিন্দা
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:২৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক

ইসরাইলকে ৮৫ রাষ্ট্রের নিন্দা


ফিলিস্তিনি ভূখ- পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারত্ব সম্প্রসারণ এবং ভূমি দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘভুক্ত ৮৫টি সদস্য রাষ্ট্র। মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর এই রাষ্ট্রসমূহ এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষে একটি যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে ইসরাইলের একতরফা সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ইসরাইল ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের ‹এরিয়া সি› অঞ্চলে ভূমি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলটি পশ্চিম তীরের মোট ভূখ-ের প্রায় ৬০ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো ও মর্যাদা পরিবর্তনের অপচেষ্টা, যা শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা। এই নিন্দা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির মতো সংস্থাও এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই পরিকল্পনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলের এই ভূমি নিবন্ধন পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করবে এবং পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। তিনি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) দেওয়া সেই ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের উপস্থিতি এবং বসতি স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০০টি অবৈধ বসতিতে ৪ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। এদিকে পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ফেলে রাখা গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও ১২ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ইসরাইলের এই নতুন দখলদারত্বের পরিকল্পনা গাজা যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত ‘কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান’ বা ব্যাপকভিত্তিক শান্তি পরিকল্পনাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা থেকে ইসরাইলি বাহিনী এক মিলিমিটারও সরবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও ইসরাইল তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ইয়েলো লাইন বলতে গাজার পূর্ব দিকের সেই সীমানাকে বোঝায়, যেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরাইলি বাহিনী পিছু হটেছিল। একটি সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় কাটজ জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে কোনোভাবেই অস্ত্র বা টানেলসহ গাজায় টিকে থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ টানেলটি ধ্বংস না হচ্ছে এবং হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইল গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে না। এর আগে গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সচিব ইয়োসি ফুচস ঘোষণা করেছিলেন, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে, অন্যথায় পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ফিলাস্তিনের গাজায় অন্তত ৭২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে ইসরাইল বারবার তা লঙ্ঘন করে বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা থাকলেও নিরস্ত্রীকরণের শর্তটি বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে ‘শিল্ড অফ ইসরাইল’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা বাজেটে আরও ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার যোগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাটজ জানান, মিত্রদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য, যাতে যুদ্ধের সময় স্বাধীনভাবে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। আল-জাজিরা, ডেইলি সাবাহ্।

এনএইচ/